বন্দর উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীনের সরকারি অফিসে অনৈতিক কর্মকান্ড এখন টক অব দ্যা টাউনে পরিনত হয়েছে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকে জয়নাল আবেদীন ছুটির নামে পলাতক রয়েছে। জয়নালের সাথে তার দফতরের মহিলা পিউনের অনৈতিক ঘটনার সিসি টিভি ফুটেজ এখন উপজেলার অধিকাংশ দফতরসহ সাংবাদিকদের হাতে এসে পৌছেছে। সিসি টিভি ফুটেজে দেখা যায় বন্দর উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীনের সাথে তারই অফিসের এক নারী পিওনের অনৈতিক কর্মকান্ডের ঘটনার সিসি টিভির ফুটেজ ফাঁস নিয়ে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকে ছুটি নিয়ে পালিয়েছেন সহকারি উদ্ভিদ সংরক্ষন কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শুক্লা সরকার জানান, তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য জেলা কৃষি কর্মকর্তাকে লিখতভাবে জানানো হয়েছে। এরই মধ্যে তাকে অন্য জায়গা বদলী করা হয়েছে।
সিটি টিভি’র ফুটেজে দেখা যায়, গত ৮ অক্টোবর সহকারি উদ্ভিদ সংরক্ষন কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন তার রুমে বসে তারই অফিসের নারী পিওনের সাথে কথা বলছেন। এক পর্যায়ে চেয়ার থেকে উঠে গিয়ে জয়নাল আবেদীন তার শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে জোর করে হাত দিচ্ছেন। ওই নারী কর্মী টেনে তার হাত সড়িয়ে দেন। তারপরে নারী কর্মী বাইলে চলে যান। তিন চার মিনিট পর জয়নাল আবেদীন আবার ওই নারী কর্মীকে ডেকে রুমে নিয়ে আসেন। ডেকে নিয়ে আসার পর জয়নাল আবেদীন চেয়ারে বসে কিছুক্ষন কথাবার্তা বলেন। তার পর ওই নারী কর্মী আবার রুম থেকে বের হয়ে যান। তার দুই মিনিট পর জয়নাল আবেদীনও রুম থেকে বের হয়ে যান। দুই তিন মিনিট পর আবার জয়নাল আবেদীন ও ওই নারী কর্মী রুমে প্রবেশ করেন। এর পর দেখা যায় জয়নাল আবেদীন চেয়ারে বসে ওই নারী কর্মীকে হাত ধরে টেনে এনে তার কোলে বসিয়ে স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিচ্ছেন। প্রায় ১৪ মিনিটের সিসিটিভি ফুটেজে সহকারি উদ্ভিদ সংরক্ষন কর্মকর্তার এই অনৈতিক কর্মকান্ড ধরা পড়েছে। এ ঘটনা নিয়ে অভিযুক্ত জয়নাল আবেদীনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমি ভুল করেছি। শয়তানের প্ররোচনায় আমি ভুল করেছি। এ ব্যপারে মহিলা অফিস পিওন বলেন, জয়নাল সাহেব আমার উর্ধতন অফিসার। সে আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে অনৈতিক কাজ করেছে। চাকরীর ভয়ে চুপ ছিলাম। সিসি টিভির ফুটেজে দেখা যায়, গত ৮ আগষ্ট দুপুরে জয়নাল আবেদীন তার অফিন কক্ষেই মহিলা অফিস পিওনের স্পর্সকাতর স্খানে হাতাহাতি, মহিলা পেটে চুম্মন ও টেনে তার কোলে বসিয়ে স্পর্সকাতর স্থানে হাত দেয়। এ বিষয়ে বন্দর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফারহানা সুলতানা জানান, আমি সিসি টিভি ফুটেজ দেখেছি। তার অনৈক কর্মকান্ডের বিষয়ে জেলা কৃষি কর্মকর্তাকে অবহিত করেছি। তিনি ব্যবস্থা নেবেন। এ ব্যপারে নারায়ণগঞ্জ জেলা কৃষি কর্মকর্তা কাজী হাবিবুর রহমানের সাথে মুঠো ফোনে আলাপ করলে তিনি বলেন, জয়নালকে অন্যত্র বদলী করা হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকান্ডের অভিযোগ আমরা পাইনি। এদিকে দেখা যায় বন্দর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ১২.১৮.৮৭০৬.০৩৯.০৪১.১২/৪৬৪ নং স্বারকে জয়নালের অনৈক কর্মকান্ডের কথা কিছুটা উল্লেখ করে জেলা কর্মকর্তাকে অবহিত করেন। এ ব্যপারে বন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান ঘটনা শুনে ও সিসি টিভি ফুটেজ দেখে হতবাক হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, এ ধরণের অপরাধ মেনে নেয়া যায় না। বিষয়টি তিনি তাৎক্ষনিক জেলা জাতীয়পার্টর আহবায়ক আলহাজ্ব আবুল জাহেরকে সাথে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শুক্লা সরকারকে অবহিত করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কৃষি কর্মকর্তাকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার নিদের্শ দেন। বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে বন্দর উপজেলায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। উপজেলা একাধিক কর্মকর্তা বলেন, জামালপুরের ডিসি সাহেব যদি তার কৃতকর্মের জন্য শাস্তি পেতে পারেন তবে বন্দর উপজেলা কৃষি অফিসের জয়নাল কেন শাস্তি পাবে না। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাই।


0 Comments