ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল
আগামী নভেম্বর মাসে। আজ কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত হতে পারে।
ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও কৃষক লীগের সম্মেলনসহ বেশ কয়েকটি
বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে এই সভায়- এমনটাই মানবকণ্ঠকে জানিয়েছেন দলটির সিনিয়র
নেতারা। সূত্রে জানা যায়, আগামী অক্টোবর মাসে ভারত সফরে যাচ্ছেন আওয়ামী
লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই মাসে ক্ষমতাসীন দলটির জাতীয়
কাউন্সিল করা সম্ভব হবে না। সে জন্য এর পরের মাস তথা নভেম্বর মাসের ১ তারিখ
থেকে ২০ তারিখে মধ্যে কাউন্সিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জাতীয় সম্মেলনের সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে
জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ওয়ার্কিং
কমিটির সভায় এ নিয়ে আলোচনা হতেই পারে। সাংগঠনিক আলোচনা আমাদের এজেন্ডার
মধ্যে রয়েছে। আমরা এই মুহূর্তে কিছু বলতে চাচ্ছি না। তবে আমরা সম্মেলন করার
জন্য প্রস্তুত। আমাদের নেত্রী যখন সিদ্ধান্ত নেবেন, তখনই আমরা সম্মেলন
করব। এর আগে ২০১৬ সালের ২৩ অক্টোবর আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত
হয়। সেই হিসেবে আগামী ২৩ অক্টোবর আওয়ামী লীগের এই কমিটির তিন বছর পূর্ণ
হবে।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে কবে নাগাদ
সম্মেলন হতে পারে জানতে চাইলে কাদের বলেন, তারিখ ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে ঠিক
হবে। পার্টির সেক্রেটারি হিসেবে ব্যক্তিগত মত বলে কিছু নেই। আমার কোনো মত
থাকলে সেটা আমি দলের ওয়ার্কিং কমিটির মিটিংয়ে উত্থাপন করব। তিনি আরো বলেন,
আমাদের মেয়াদে যেসব শাখা মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে, সে বিষয়ে নেক্সট ওয়ার্কিং
কমিটির মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হবে।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য লে.
কর্নেল (অব) মুহাম্মদ ফারুক খান মানবকণ্ঠকে বলেন, আগামীকাল (আজ) সন্ধ্যায়
আমাদের দলের কার্যনির্বাহী কমিটির সভা আছে। সেই সভায় দলের সাংগঠনিক বিষয়
নিয়ে আলোচনা করা হবে। সেখানে শৃঙ্খলাজনিত বিষয় নিয়েও আলোচনা হবে। আওয়ামী
লীগের জাতীয় কাউন্সিলসহ সহযোগী সংগঠনের সম্মেলন কবে হবে তা নিয়ে আলোচনা করা
হতে পারে বলে তিনি জানান। ছাত্রলীগের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা আলোচনা করেছি,
এখন শুধু সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
তবে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক
অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক মানবকণ্ঠকে বলেন, সভায় বিভিন্ন কর্মসূচি
এবং সাংগঠনিক রাজনৈতিক বিষয়ে আলোচনা হবে। সম্মেলন নিয়ে আলোচনা এজেন্ডায়
নাই। সভানেত্রী আলোচনা করলেও করতে পারেন।
এ ছাড়া আওয়ামী লীগের মেয়াদোত্তীর্ণ তিন
সহযোগী সংগঠন যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ এবং ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন
শ্রমিক লীগেরও কোনো সম্মেলন প্রস্তুতি নেই।
এদিকে চলতি সেপ্টেম্বরেই জাতিসংঘ অধিবেশনে
যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রে যাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর অক্টোবরের
প্রথম সপ্তাহে ভারত সফরে যাবেন। সফর শেষে সহযোগী সংগঠনের সম্মেলন করা তাগিদ
দেয়া হবে। তবে কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্তগুলো গ্রহণ করা হতে
পারে। জানা যায়, আওয়ামী লীগের সম্মেলনের আগে সাংগঠনিক জেলাগুলোর সম্মেলন
আয়োজন করা হয়। এবার উপজেলা নির্বাচন, রমজান ও কোরবানির ঈদের পর পরই শুরু হয়
আগস্টের কর্মসূচি। এরই মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে আগস্টের মাসব্যাপী কর্মসূচি।
এখন যেসব জেলায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই সেখানে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন
দেয়া নিয়ে কাজ করছেন সংগঠনটির সিনিয়র নেতারা। কিছু উপজেলায় সম্মেলন হতে
পারে। জাতীয় সম্মেলনের আগে জেলা সফর নিয়েও আলোচনা করা হবে।
দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন,
ওয়ার্কিং কমিটির সভার পর সাংগঠনিক সফর যাব। আওয়ামী লীগের প্রতিটি সম্মেলনে
একটি বিশেষ লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য থাকে। এবারের সম্মেলনের মূল ফোকাস থাকবে
জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালনের প্রস্তুতি।
আওয়ামী লীগের আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক
আব্দুর রহমান মানবকণ্ঠকে বলেন, কার্যনির্বাহী সংসদ কমিটির বৈঠকে ৭ নভেম্বর
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস নিয়ে আলোচনা হবে। এ ছাড়া সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক
আলোচনা হবে। নির্ধারিত আলোচনার বাইরেও অনেক আলোচনা হতে পারে। সম্মেলন তো এর
বাইরে না।
আওয়ামী লীগের একজন সিনিয়র নেতা বলেন,
আগামী শনিবার (আজ) দলটির সভাপতির নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হবে কার্যনির্বাহী
কমিটির সভা। সভায় জাতীয় সম্মেলন, নৌকা প্রতীকে দুই সিটি কর্পোরেশন
নির্বাচন ও তৃর্ণমূলের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সাংগঠনিকভাবে জেলা সফরসহ বেশ
কয়েকটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। ওয়ার্কিং কমিটির সভা হলে গত দুই মাস যে
কাজগুলো পেন্ডিং আছে, সেগুলোতে গতির সঞ্চার হবে। তবে ঢাকার দুই সিটি
কর্পোরেশন নির্বাচন এগিয়ে আসায় বেশকিছু কাজ আবারো গতি হারাতে পারে। বিশেষ
করে যথাসময়ে জাতীয় সম্মেলন না হওয়ার আশঙ্কা আছে। রীতি অনুসারে জাতীয়
সম্মেলনের আগে তৃণমূল তথা ইউনিয়ন, থানা, জেলা পর্যায়ের সম্মেলন শেষ করে
কেন্দ্রীয় সম্মেলন হয়।
এ ছাড়া কেন্দ্রীয় সম্মেলনের আগেই
মেয়াদোত্তীর্ণ সহযোগী সংগঠনগুলোরও সম্মেলন হয়। ঢাকা দুই সিটি কর্পোরেশন
নির্বাচনে নৌকার প্রতীকের অংশগ্রহণ নিয়েও আলোচনা হবে আগামী ওয়াকিং কমিটির
সভায়। বর্তমান মেয়াদের কার্যকলাপ নিয়ে আলোচান হতে পারে। তাদের ছাড়াও নতুন
কাউকে মনোনয়ন দেয়া হবে কী-না সেই বিষয়েও ইঙ্গিত দেয়া হবে এমনটাই মানবকণ্ঠকে
জানিয়েছেন উপদেষ্টা কমিটির এক সদস্য। তবে ছাত্রলীগের বর্তমান পরিস্থিতির
ওপর নির্ভর করে ছাত্রলীগের সম্মেলন করা হবে। এটা আগামও হতে পারে। সেই আজ
বর্তমানরা দায়িত্বে থাকবেন নাকি নতুন কাউকে বসাবেন এ ব্যাপারে চ‚ড়ান্ত
সিদ্ধান্ত হবে।


0 Comments