আড়াইহাজারে স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে গৃহবধু সাহেলা আক্তারকে (২৫) গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যায় স্বামী মোবারক হোসেন (৩৫)।মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) দিবাগত মধ্য রাতে উপজেলার গোপালদী পৌরসভার উত্তর কলাগাছিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার খবর পেয়ে বুধবার সকালে গোপালদী তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করে। নিহত সাহেলা আক্তার গোপালদী পৌরসভার উত্তর কলাগাছিয়া এলাকার হাসেম আলীর মেয়ে।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ বছর আগে গোপালদী পৌরসভার উত্তর কলাগাছিয়া এলাকার হাসেম আলীর মেয়ে সাহেলা আক্তারকে ননরসিংদীর মাধবদী থানার খাদিমার চর এলাকার আব্দুল খালেকের ছেলে মোবারক হোসেনের সাথে বিয়ে হয়।  বিয়ের কিছুদিন পর মোবারক হোসেন তার স্ত্রী নিয়ে শশুর বাড়িতে বসবাস করে স্থানীয় পাওয়ার লোম ফ্যাক্টরীতে কাজ করে। তাদের সংসারে এক ছেলে এক মেয়ে রয়েছে। মোবারক চাকরী ছেড়ে ব্যবসা করবে এমন অজুহাতে স্ত্রীর কাছে মোটা অংকের টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। এমনকি টাকার জন্য প্রায় সময় মোবারক তার স্ত্রীকে মারধর করতো। সেই সূত্রধরে সাহেলার স্বামী মোবারক মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১০টা থেকে ১টার মধ্যে ঘুমন্ত অবস্থায় যেকোনো সময় নিজের শোয়ার ঘরের খাটে গলা কেটে তাকে হত্যা করেছে। ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী পলাতক রয়েছে। পরে নিহতের বাবা তার মেয়ের গলা কাটা লাশ খাটের উপর পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশকে সংবাদ দেয়। নিহতের বোন পারভীন আক্তার জানান, বিয়ের পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর সঙ্গে নানা বিষয়টি নিয়ে মনোমালিন্য চলছিল। বিভিন্ন সময় তাকে মারধর করা হতো। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই তাকে হত্যার হুমকী দিয়ে আসছিল। সংসারে কলহের জেরে সাহেলার শোয়ার ঘরের খাটে গলা কেটে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তাদের দাম্পত্য জীবনে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। গোপালদী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই নাসির আহমেদ জানান, পারিবারিক কলহের জের ধরে গৃহবধু সাহেলাকে তার স্বামী হত্যা করে পালিয়ে গেছে। নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের স্বামীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

Post a Comment

0 Comments