দেশে শিশু শ্রম নিষিদ্ধ হলেও নারায়ণগঞ্জ শহরের ঐতিহ্যবাহি বিদ্যাপীঠ নারায়ণগঞ্জ প্রিপারেটরী স্কুলে শিশু শিক্ষার্থীদের দিয়ে শ্রমিকের কাজ করানোর অভিযোগ উঠেছে স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। বিপুল পরিমাণ ইট সরানোসহ ময়লা পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ করানো হয়েছে অর্ধশত শিশু শিক্ষার্থীকে দিয়ে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা। জানান গেছে, স্কুলটির মাঠে দীর্ঘদিন যাবত এলামেলাভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে ছিল প্রায় দুই হাজারের মতো ইট।মাঠটি পরিষ্কারের উদ্দেশ্যে গতকাল বুধবার স্কুল চলাকালীন সময়ে ক্লাশ বন্ধ রেখে এই কাজে অর্ধশত শিশু শিক্ষার্থীকে ব্যবহার করেন সহকারি শিক্ষক গোলাম মোস্তফা শাহীন। বিস্তর ফান্ড থাকা সত্ত্বেও পেশাদার শ্রমিক না এনে দুই হাজারের মতো ইট বহনের কাজটি তিনি করান শিশু শিক্ষার্থীদের দিয়ে। সকাল এগারোটা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত টানা দুই ঘন্টাব্যাপী শিক্ষার্থীদের দিয়ে এই ভারী কাজটি করান তিনি। সহকারি শিক্ষক গোলাম মোস্তফা শাহীন নিজে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের কাজের তদারকি করেন। এসময় পাশের বহুতল ভবনের উপর থেকে কোন একজন ব্যক্তি এর ভিডিও চিত্রটি তার মোবাইল ফোনে ধারণ করলে দুপুরে সেটি স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে পাঠান।পরে স্কুলে গিয়ে এর সত্যতা পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে স্কুলের শিক্ষার্থীরা জানায়, সহকারি শিক্ষক গোলাম মোস্তফা শাহীনের নির্দেশেই তারা ইট বহন ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজটি করেছে। তবে কোমলমতি এই শিশু শিক্ষার্থীদের দিয়ে শ্রমিকের কাজ করানোর ঘটনায় স্কুল কর্তৃপক্ষের প্রতি ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা। তারা বলছেন, বার্ষিক পরীক্ষার আগ মুহূর্তে শিক্ষার্থীদের দিয়ে শারীরিক পরিশ্রমের এই কাজটি না করিয়ে পেশাদার শ্রমিক দিয়ে করানো উচিত ছিল। কয়েকজন অভিভাবক বলেন, দুই এক দিনের মধ্যেই বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে। পরীক্ষার আগ মুহূর্তে শারীরিক পরিশ্রমের এমন ভারী কাজ শিক্ষার্থীদের দিয়ে করানো ঠিক হয়নি। তারা অসুস্থ্য হয়ে যেতে পারে। এতে করে পরীক্ষায় বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে কেউ কেউ মতামত দেন। এ ব্যাপারে স্কুলের অভিযুক্ত সহকারি শিক্ষক গোলাম মোস্তফা শাহীন জানান, স্কুলে ফুটবল খেলার আয়াজন হবে। তাই মাঠ পরিষ্কারের উদ্দেশ্যে স্কাউট শিক্ষার্থীরা তার নির্দেশে স্বপ্রণোদিত হয়েই কাজটি করেছে বলে তিনি দাবি করেন।
পাশাপাশি বিষয়টিকে খুব হালকাভাবেই দেখছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। প্রধান শিক্ষক আবদুল বারী দাবি করেন, শিক্ষার্থীদের দিয়ে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ করানো যায়। এতে কোন অসুবিধা নেই। এ ব্যাপারে জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা মনোয়ারা সুরুজ বলেন, জাতিসংঘের শ্রম আইনে শিশু শ্রমের কথা নিষিদ্ধ থাকলেও আমাদের দেশে তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। তিনি বলেন, শিশুদের মানসিক বিকাশের পাশাপাশি শারিরীক গঠনের বিকাশেরও প্রয়োজন আছে। তবে ওজনে ভারী কাজ শিশুদের উপর চাপিয়ে দেয়া কোনভাবেই উচিত নয়, তাতে কাজের প্রতি শিশুদের অনীহা সৃষ্টি হবে। এই বিষয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষের গুরুত্ব দেয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) রেহেনা আকতার দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এটি খুবই অন্যায় কাজ
হয়েছে। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখব। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসক মহোদয়কে বিষয়টি অবহিত করা হবে। তিনি যা নির্দেশ দেবেন সেই মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিন জানান, শিক্ষার্থীদের দিয়ে ইট বহন করানো স্কুল কর্তৃপক্ষ ঠিক করেনি। কাজটি অমানবিক হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। পাশাপাশি অভিভাবকদের পক্ষ থেকে কেউ অভিযোগ দিলে সেটিও আমলে নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।


0 Comments