নারায়নগঞ্জ বন্দরের মদনপুর-মদনগঞ্জ সড়ক ‘ঝাঁঝরা’!!


নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগের একমাত্র সড়ক মদনপুর-মদনগঞ্জ সড়ক। বন্দরে রয়েছে সিমেন্ট, বিদ্যুৎ, তুলা, ডকইয়ার্ড, খাদ্য, পানীয়সহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন অবৈধ স্ট্যান্ড, শিল্প-কারখানা
সাড়ে তিন লাখ মানুষ এসব প্রতিষ্ঠানের পণ্যবাহী গাড়িকে চলাচল করতে হয় বন্দরের এই প্রধান সড়ক দিয়ে। অথচ গত ছয় বছরে সংস্কারের হাত পড়েনি সড়কটিতে। ১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটির পুরোটাই গর্ত আর খানাখন্দে ভরা। ফলে দুর্ভোগ আর ঝুঁকির মধ্যেই চলাচল করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষ, শ্রমিক যানবাহনকে
সূত্র জানায়, বন্দরের এক সময়ের রেললাইনটিই মদনপুর-মদনগঞ্জ সড়ক হিসেবে গড়ে উঠেছে। সড়কটি সর্বশেষ গুরুত্ব সহকারে সংস্কার করা হয়েছিল ২০১০ সালে। প্রধানমন্ত্রীর মদনগঞ্জে আগমনকে কেন্দ্র করে ওই সংস্কারের পর এদিকে আর মুখ ফিরে তাকায়নি সড়ক জনপথ (সওজ) বিভাগ। দীর্ঘ সময় ধরে অবহেলায় থাকার কারণে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। জায়গায় জায়গায় বিটুমিন উঠে গেছে
সড়কের পুরোটা দখল করে নিয়েছে ছোট-বড় গর্ত। বৃষ্টি হলে পানিতে ভরে গর্তগুলো আরো বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। ময়লা-আবর্জনা কাদায় একাকার হয়ে যায় আঁকাবাঁকা সড়কটি। শুষ্ক আবহাওয়ায় রাস্তাজুড়ে থাকে ধুলার আস্তরণ। এর মধ্য দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে বন্দরের সাড়ে তিন লাখ মানুষকে; বন্দরে গড়ে ওঠা বসুন্ধরা সিমেন্ট, আকিজ সিমেন্ট, আকিজের অবৈধ স্ট্যান্ড, সিমেক্স সিমেন্ট, সামিট পাওয়ার প্লান্ট, এসিআই ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, নৌবাহিনী পরিচালিত নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ড, মেরিন ইনস্টিটিউট, তিন শতাধিক তুলা কারখানা, খাদ্যগুদামসহ বিভিন্ন শিল্প-কারখানার গাড়িগুলোকে
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ফরাজিকান্দা এলাকায় সড়কটির দুই পাশের মাটি সরে গিয়ে সরু হয়ে গেছে। ঝোপঝাড় আর খানাখন্দ তো রয়েছেই। সড়কের দুই পাশে গড়ে উঠেছে অবৈধ দোকানপাট। একই অবস্থা নবীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড হাজীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডেও। নয়াপাড়ায় সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। বাগবাড়ী এলাকায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ হলেও মরনব্যাধী অবৈধ স্ট্যান্ড সড়কের অবস্থা ভয়াবহ। দুটি গাড়ি অতিক্রম করতে হলে ঝুঁকি নিতে হয়। ধামগড় ইস্পাহানি এলাকার অবস্থাও খুব খারাপ। স্থানীয় জাকির হোসেন বলেন, ‘সামান্য বৃষ্টি হলেই এলাকায় গাড়ি ফাঁইস্যা যায়। একই অবস্থা কুড়িপাড়া, চৌরাপাড়া এলাকাতেও। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাজুড়ে প্যাঁক-কাদার সৃষ্টি করে।
মদনপুর-মদনগঞ্জ সড়কটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মদনপুর মোড়ে এসে মিশেছে। মোড়ে চলছে দখলের প্রতিযোগিতা। অটোরিকশা, বেবির অবৈধ স্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে। ফলে এলাকায় যানজট লেগেই থাকে, যার রেশ পড়ে মহাসড়কেও
বন্দর প্রেস ক্লাবের সভাপতি কমল খান বলেন, ‘বন্দরে গড়ে ওঠা শিল্প-কারখানাগুলো সরকারকে বিপুল অঙ্কের রাজস্ব দিয়ে থাকে। অথচ মদনপুর-মদনগঞ্জ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে আছে। 
বন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এম রশিদ বলেন, ‘পদ্মা তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু হলে সড়ক দিয়েই রাজধানীর ওপর কোনোরূপ চাপ না ফেলেই দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গাড়িগুলো বৃহত্তর সিলেট চট্টগ্রামে যাতায়াত করতে পারবে। সড়কটি মেরামতে আমরা নারায়ণগঞ্জ সড়ক জনপথ বিভাগকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছে

Post a Comment

0 Comments