নিজস্ব
সংবাদদাতা// সরকার দলীয় নেতা
শহিদুল্লাহ'র ইজারা নেয়া
৫ নং (ইস্পাহানি) খেয়াঘাটে
চলছে চরম দূর্নীতি, অনিয়ম,
সেচ্ছাচারিতাসহ নির্যাতন। প্রশাসনের রহস্যজনক ভূমিকার কারনে প্রতিনিয়ত বাড়ছে
অনিয়ম। লাগামহীন হয়ে পড়েছে তাদের
অনৈতিক কর্মকান্ড। কোন ভাবেই যেন
কমছে না তাদের অনিয়ম।
যা নিয়ে সর্ব মহলে
ব্যাপক আলোচনা- সমালোচনা হলেও ডন্ট কেয়ার
শহিদুল্লাহ'র কাছে। যাত্রী
দূর্ভোগ এমন আকার ধারন
করেছে যা ভুক্তভোগী ছাড়া
কেউ উপলব্ধি করা কষ্ট হবে।
আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী সাংসদ শামীম ওসমানের
ঘনিষ্টজন হিসেবে শহরে পরিচিত
হলেও প্রকৃতভাবে বহুরূপী বললেও চলে। শহরের
দেওভোগ এলাকার শহিদুল্লাহ বিএনপির
আলোচিত ক্যাডার জাকির খানের চাচা
ও মনোয়ার হোসেন শুকনের
মামা। চারদলীয় জোট আমলে যে
দাপটে ছিলেন আওয়ামীলীগ সরকারের
সময়ে একই। চারদলীয় জোট
সরকার আমলে উৎসব পরিবহন
ছিল তার নিয়ন্ত্রণে। এক
এগারোর পর মহাজোট সরকার
ক্ষমতায় আসার পর থেকে
শহরের বাসস্ট্যান্ড হতে অনেক কিছু
নিয়ন্ত্রণ করলেও কেউ কথা
বলতে সাহস পায় না।
আবার প্রশাসনও নীরব। কারন তিনি
শামীম ওসমানের লোক। এক কথায়
নারায়নগঞ্জ ৫নং খেয়াঘাট(ইস্পাহানি)
যাত্রী সাধারনের কাছে অভিশাপে পরিনত
হয়েছে। অতিরিক্ত টোল আদায়, যাত্রীদের
সাথে খারাপ আচারনসহ নানাবিধ
অপকর্ম করে যাচ্ছে। দেখার
যেন কেউ নেই। ইজারাদারসহ
তার লোকদের কাছে অনেকটা
অসহায় হয়ে নদী পারাপার
হতে হচ্ছে। কেউ কোন
প্রকার প্রতিবাদ করার সাহস পায়
না। কারন ইজারাদার দেওভোগ
এলাকার শহিদুল্লাহ। বিএনপির ক্যাডার জাকির খানের চাচা
শহিদুল্লাহ ও তার পাটনার
নাদিম মিয়ার রয়েছে একটি
ক্যাডার বাহিনী। কোন যাত্রী প্রতিবাদ
করলে তার উপরে নেমে
আসে নির্যাতনের খড়গ। যাত্রীদের সুবির্ধাতে
ইস্পাহনি খেয়াঘাটের বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে
স্থানীয় সাংসদ সেলিম ওসমানের
জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা ভুক্তভোগীদের।
সূত্র
মতে, নারায়নগঞ্জ- বন্দরের একরামপুর ইস্পাহানি খেয়াঘাট নামে পরিচিত (৫
নং খেয়াঘাট)' যাত্রী সেবার নামে
চলে হয়রানি। শহরের দেওভোগ এলাকার
শহিদুল্লাহ ও নাদিম মিয়া
ঘাটটির ইজারাদার। ঘাট পরিচালনার জন্য
বোরহান, মনির মিয়া, হায়দার,
মিরু, কিছলুসহ ১০/১২ জনের
একটি গ্রুপ। খেয়াঘাটে জনপ্রতি
২ টাকা ও ইঞ্জিন
চালিত (ছোট) নৌকায় ২
টাকা গুনতে হয়। একজন
সাধারন লোক এ ঘাটটি
পারাপার হতে হলে ৮
টাকা গুনতে হয়। আর
রাত ৯ টার পর
থেকে শুরু হয় অন্য
রকম এক দৃশ্য। কোন
যাত্রী ১০ কেজি ওজনের
মালামাল আনতে হলেও অতিরিক্ত
টাকা দিতে হয়। এই
ঘাটে প্রায় ১শ' ২০
টি ছোট ইঞ্জিন চালিত
নৌকা রয়েছে। নৌকার মাঝিদের
ইজারাদারকে দিতে হয় প্রতিদিন
১শ' টাকা। মাঝিদের সমবায়
সমিতি প্রায় ৬ মাস
যাবত অদৃশ্য কারনে বন্ধ
রয়েছে বলে নাম প্রকাশ
না করার শর্তে একাধিক
মাঝি জানান। চরম দূর্ভোগের
শিকার হতে হচ্ছে যাত্রীদের।
জেলা সেচ্ছাসেবকলীগের নেতা বন্দরের একরামপুর
ইস্পাহানি এলাকার কিতাব আলী
গত ২১ সেপ্টেম্বর (শনিবার)
দুপুরে অটোরিক্সার ২৫ কেজি ওজনের
ব্যাটারি আনতে গিয়ে খেয়াঘাটে
অতিরিক্ত জমা দিতে হয়েছে
৭০ টাকা। সরকারদলী নেতা
ও সমাজ সেবকের যদি
এমন হয় সাধারন জন্য
কি হতে পারে এমনই
অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। একই এলাকার মোঃ
আব্দুল হাই ১শ' টাকার
কলার ছড়ি আনতে গিয়ে
ঘাটে দিতে হয়েছে ২০
টাকা। এমনও শত শত
অভিযোগ থাকলেও রহস্যজনক কারনে
ইজারাদার রয়েছে বজাল তবিয়তে।
নারায়নগঞ্জ -৫ আসনের সংসদ
সদস্য সেলিম ওসমান ব্যাক্তি
তহবিল থেকে বন্দর ও
নবীগঞ্জ খেয়াঘাটের অবস্থা স্বাভাবিক হলেও
৫ নং খেয়াঘাটে চলছে
জুলুম। এ বিষয়ে নাসিক
২৩ নং ওর্য়াড কাউন্সিলর
ও মহানগর সেচ্ছাসেবকলীগের সাধারন
সম্পাদকের মোবাইলে ফোন দিয়ে তাকে
পাওয়া যায়নি। তবে মহানগর
আপয়ামীলীগের যুব ও ক্রীড়া
বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ন কবির মৃধা
বলেন, এ ঘাট দিয়ে
তেমন একটা যাওয়া- আসা
হয় না। অতিরিক্ত ভাড়া
আদায়সহ নানা দূর্ভোগের কথা
শোনেছি। বর্তমান সরকারের সময়ে এটা মানা
অসম্বব। তারপর আমাদের এমপি
সেলিম ওসমান ভাই বিষয়টি
গুরুত্ব সহকারে দেখবেন বলে
তার দাবী। আর সরকার
অনিয়ম, দূর্নীতির বিরুদ্ধে যে কঠোর অবস্থানে
তাতে ইজারাদার সহনশীল না হলে
চরম মাশুল দিতে হবে।
জনগনের দূর্ভোগ লাগবে সাংসদ সেলিম
ওসমানের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা
করেছেন বন্দর নাগরিক কমিটি।


0 Comments