এসপির কার্যলয়ের পিছনের রাস্তাটি দিয়ে পায়ে হাঁটাও দুস্কর


রাস্তাটির হাল দেখে যে কারো মনে হতে পারে জনমানবহীন পরিত্যাক্ত কোনো জায়গায় যাওয়ার পথ এটি যেখানে দীর্ঘদিন ধরে গাড়ি চলাচল তো দূরের কথা হয়তো পায়ে হাঁটা মানুষেরও আনাগোনা নেই। কারণ বছরের পর বছর ধরে সংস্কারের অভাবে সড়কটির এমন ভয়াবহ অবস্থা হয়েছে যে এই রাস্তায় চলাচল করা এখন দুষ্কর। অথচ পায়ে হেঁটে চলাও অসম্ভব এমন সড়কে বছরের পর বছর চলাচল করতে হচ্ছে কয়েক লাখ মানুষের। নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের পাশই অবস্থিত অবহেলিত রাস্তাটি। এছাড়া এই সড়কের পাশেই রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তর আদালত পাড়া, জেলা প্রশাসনের কার্যালয়, জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সহ অসংখ্য গার্মেন্টস শিল্প প্রতিষ্ঠান। সড়কটি আদালত পাড়ার পাশে হওয়ায় এই সড়কের পাশেই অবস্থিত নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সেক্রেটারী মোহসীন মিয়া, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা সহ অসংখ্য আইনজীবীরি চেম্বার ও অফিস। এছাড়া নারায়ণগঞ্জের অন্যতম বড় গার্মেন্টস শিল্প প্রতিষ্ঠান ফকির গার্মেন্টস লিঃসহ বেশ কয়েকটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি এই সড়কের পাশে অবস্থিত। এছাড়া অসংখ্য বহুতল আবাসিক ভবন রয়েছে সড়কটির উভয় পাশে। যে কারণে সরকারি চাকরিজীবী, নগরবাসীকে আইনী সেবা নিতে, শিক্ষার্থীদের চলাচল সহ বিভিন্ন শ্রেনিপেশার মানুষের যাতায়াত এই সড়ক দিয়ে। কিন্তু দির্ঘদিন ধরে রাস্তাটির সংস্কার কাজ হচ্ছে না। এমনকি শেষ কবে সংস্কার করা হয়েছে তাও ভুলে গেছেন এই এলাকার বাসিন্দারা। যে কারণে রাস্তাটিতে তৈরী হয়েছে ছোট বড় অসংখ্য খানাখন্দক। এসব খানাখন্দকে এখন বছর জুড়েই লেগে থাকে জলাবদ্ধতা। এমন অবস্থায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কয়েক রাখ মানুষের। কাউসার বলেন, এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন গার্মেন্টে যেতে হয়। কিন্তু কোনো রিকশা প্রবেশ করতে চায় না। করবেই বা কি করে? খানাখন্দের কারণে একজন যাত্রী নিয়েও রিকশা টানা খুব কঠিন। ব্যাটারি চালিত অটো রিকশা চলাচল করে। কিন্তু এত পরিমাণ ঝাঁকুনি খায় যে তাঁদেরকেও জোর করে ভাড়া বেশি দিয়ে নিয়ে যেতে হয়। স্বাভাবিক বাড়া যেখানে ১৫-২০ টাকা সেখানে ৪০টাকা ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। এ প্রসঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন বলেন, বৃষ্টি না থাকলে পায়ে হেঁটে চলাচল করা গেলেও বড় বড় খানাখন্দের কারণে গাড়িতে চলাচল করা যায় না। কিন্তু বৃষ্টির সময় এই জায়গা মরণ ফাঁদে পরিণত হয়। কোথায় খানাখন্দ কিছুই বুঝা যায় না। প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটতে দেখি। তিনি আরো বলেন, এই অবস্থা এক দিনের না। দীর্ঘদিন ধরেই আমাদেরকে এই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অথচ স্থানীয় কোনো জনপ্রতিনিধি আমাদেরকে দেখতেও আসে না। বছরের পর বছর এইবাবেই বসবাস করছি। আমাদের অবস্থা এখন খুব করুণ। জনপ্রতিনিধিদের কাছে অনুরোধ করব যাতে রাস্তাটি দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা করা হয়। এ ব্যাপারে জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহসীন মিয়া জানান, বিষয়টি ইতোমধ্যে এমপি সাহেবকে জানানো হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে দ্রুত টেন্ডার আহবান করা হবে।

Post a Comment

0 Comments