প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি পদ্মবিল

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি হয়ে দাঁড়িয়েছে পদ্মবিল। পাহাড়, টিলা, উদ্যান, পশু-পাখির অভয়ারণ্য, জলাবন ও কমলা রানীর দীঘি রয়েছে এখানে। এবার প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেওয়া পদ্ম বাড়িয়ে দিয়েছে বিলের সৌন্দর্য।
জেলার বানিয়াচং উপজেলার পুকড়া ইউনিয়নের মুড়ারআব্দা হাওরে এ পদ্মবিলের অবস্থান। প্রায় ১০ একর হাওর জুড়ে এই বিল। নৌকায় চড়ে পদ্মফুল ও হাওরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করে নানা বয়সি দর্শনার্থীরা।
প্রতিদিনই সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভ্রমণপিপাসুদের ভিড় থাকে পদ্মবিলে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও ছুটির পর বেড়াতে আসে পদ্মবিলে। ভ্রমণপিপাসুরা পদ্মবিলের সুন্দর মুহূর্তগুলো ধরে রাখে সেলফিতে।
বেসরকারি একটি উন্নয়ন সংস্থার মাঠকর্মী শিরিন আক্তার বলেন, অফিসের কাজে পুকড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে যাওয়া হয়। কখনও হাওর পাড়ি দিয়ে যেতে হয় গ্রামে। তেমনি একটি হাওরের নাম পদ্মবিল।
দেখতে চমৎকার দৃশ্য। হাওরের পানিতে ভাসছে পদ্মফুল। তবে এ বছর হাওরে পানি কম থাকায় ফুল বেশি ফোটেনি।
কলেজছাত্র শাহ আলম বলেন, ফেসবুকের কল্যাণে পদ্মবিল দেখতে যাই। সাধারণত কোনো হাওরে পদ্মফুল আমার দেখা হয়নি। এখানে গিয়ে পদ্মফুল দেখে আমি উচ্ছ্বসিত। ঘুরতে এসে বন্ধুদের সঙ্গে অনেক আনন্দ করেছি। হবিগঞ্জ জেলা শহরের বাসিন্দা সুমাইয়া শিমু বলেন, নৌকায় চড়ে হাওরে পদ্মফুল দেখা অনেক রোমাঞ্চকর ব্যাপার। পরিবারের সঙ্গে সেখানে সময় কাটাতে পেরে অনেক ভালো লেগেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সোহাদ বলেন, পরিবার-পরিজন নিয়ে পদ্মবিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে শহর থেকে সপরিবারে লোকজন আসে। পদ্মবিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মনোমুগ্ধকর। তবে তিনি অভিযোগ করে বলেন, পদ্মবিল থেকে অনেকেই পদ্মফুল ছিঁড়ে নিয়ে যায়। এ কারণে এর সৌন্দর্য হারিয়ে যাচ্ছে। পুকড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন জানান, গত বছর পদ্মবিল আবিষ্কার হয়। এ বছর হাওরে পানি কম থাকায় পদ্মফুল বেশি ফোটেনি। তিনি বলেন, পদ্মবিলটি সংরক্ষণের জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসন আশ্বাস দিয়েছেন।
জেলা প্রশাসক মাহমুদুল কবির মুরাদ বাংলা বলেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত পদ্মবিল সংরক্ষণে ব্যবস্থা নেবে জেলা প্রশাসন। বিলের জমির মালিকদের অন্যত্র জমি দেওয়া হবে। ফলে পদ্মবিল সংরক্ষণে তেমন একটা সমস্যা হবে না।

Post a Comment

0 Comments