সারা বিশ্বে ডায়াবেটিসে আক্রান্তের সংখ্যা
দিন দিনই বাড়ছে। এটি এমন একটি রোগ যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের অসুস্থতা
বাড়িয়ে তোলে। নিয়ম মেনে চলার পরও অনেক সময় সামান্য কারণেই বাড়তে পারে রক্তে
সুগারের মাত্রা। একবার ডায়াবেটিস ধরা পড়লে পছন্দের অনেক খাবারই বাদ পড়ে
খাদ্য তালিকা থেকে। বিশেষ করে মিষ্টি বা মিষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়া প্রায়
বন্ধ হয়ে যায়। তবে শুধু মিষ্টি নয়, রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে
আরো বেশ কিছু খাবার-দাবার এড়িয়ে চলা জরুরি।
দৈনন্দিন কর্মব্যস্ততার কারণে অনেকে
রান্নার সময় বাঁচাতে ফাস্ট ফুডেই বেশি ভরসা রাখেন। পুষ্টিবিদদের মতে, এ
ধরনের খাবার খেলে রক্তে শর্করার পরিমাণ দ্রুত বাড়ে। বাজারে এখন অনেক রকমের
‘রিফাইনড’ তেল পাওয়া যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব তেলে ভাজা চিপস বা
স্ন্যাকস জাতীয় খাবার রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। একই
সঙ্গে ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয় বহুগুণ।
রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে যে
কোনো ধরনের প্যাকেটজাত পানীয়, যেমন- ফলের জুস বা কোমল পানীয় এড়িয়ে চলা
জরুরি। এই পানীয়গুলোর মধ্যে, বিশেষ করে ফ্রুট জুসে থাকা ‘ফ্রুকটোজ’ রক্তে
শর্করার পরিমাণ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। পেষ্ট্রি, আইসক্রিম ,কাপকেক, কুকিজ
আপনাকে তৃপ্তি দিচ্ছে ঠিকই, কিন্তু এগুলোও রক্তে ইনস্যুলিনের মাত্রা বহুগুণ
বাড়িয়ে দেয়।
রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে
ভাত, হোয়াইট ব্রেড, পাস্তা বা এই জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন। কারণ এগুলো রক্তে
শর্করার মাত্রা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এর পরিবর্তে ব্রাউন ব্রেড, ওটমিল বা এই
জাতীয় খাবার খান যেগুলোতে গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের মাত্রা কম আছে। অতিরিক্ত
তেল বা মশলাদার খাবার এড়িয়ে চলুন। এসব খাবারে থাকা ট্রান্স ফ্যাট
ইনস্যুলিনের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বৃদ্ধি
পায়।


0 Comments