শিল্পপতিদের দখলে যাচ্ছে জেলা বিএনপি


নারায়ণগঞ্জে বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থা শক্ত করতে জেলা মহানগর বিএনপির কমিটি পুনর্গঠন করার গুঞ্জন অত:পর বাস্তপ রূপ নিতে যাচ্ছে। এরই মধ্যে জেলা বিএনপির কমিটি কেন্দ্রীয় নেতাদের টেবিলে অপেক্ষায় রয়েছে ঘোষনার জন্য। কেন্দ্রীয় সূত্রে জানাগেছে, আজহারুল ইসলাম মান্নানকে সভাপতি, নজরুল ইসলাম আজাদকে সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপুকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে জেলা বিএনপির নতুন কমিটি ঘোষনা হতে যাচ্ছে। জেলা বিএনপির বর্তমান সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান মনির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদের সাংঠনিক ব্যর্থতার কারণেই নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীদের রাজপথে উজ্জীবিত করতে নতুন কমিটির সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় হাইকমান্ড। নতুন কমিটিতে আসা সম্ভাব্য নেতাদের নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন। জানাগেছে, দীর্ঘদিন ধরেই রাজপথ থেকে দূরে রয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু। গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেতে বেশ তৎপর থাকলেও দলীয় না পেয়ে রাজপথে নিষ্কৃয় হয়ে যান তিনি। আর নিবার্চনে আড়াইহাজারে নজরুল ইসলাম আজাদ সোনারগাঁ আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন আজহারুল আসলাম মান্নান ওরয়ে বদলী মান্নান। নির্বাচনে ভরাডুবির পর রাজপথে থেকে তারাও নিষ্কৃয় হয়ে পড়েন। বিশেষ করে নজরুল ইসলাম আজাদ নির্বাচনের পরে বিএনপির রাজনীতিতে একেবারে নিস্ত্রীয় হয়ে পড়েছেন। তবে তারা তিনজনই প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। তাই দলের ত্যাগীতের মাঝে প্রশ্ন জেগেছে, জেলা বিএনপির কমিটি কি শিল্পপতিদের দখলে চলে যাচ্ছে? আর কমিটি যদি শিল্পপতিদের দখলে চলে যায় তাহলে আগামী দিনে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির নেতারা রাজপথে কর্মীদের চাঙ্গা করাটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। সূত্র বলছে, এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতার বাহিরে রয়েছে বিএনপি। আর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনে ধানের শীষ প্রতীকের ভরাডুবির পর হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়ে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। তাই নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতে নির্বাচনের পর পরই জেলা মহানগর বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেয় কেন্দ্র। কিন্তু কমিটি ঘোষনার পর থেকেই রাজপথে নিজেদের অবস্থান জানান দিতে ব্যর্থ হয় জেলা বিএনপি। কেন্দ্রীয় কর্মসূচী পালনের ক্ষেত্রে জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান মনিরকে রাজপথে দেখা যায় না। গত ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে চাষাড়া বিজয় স্তম্ভে শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছিল জেলা বিএনপির নেতারা। কমিটি ঘোষনার পরের দিনই বিজয় দিবসে শহরে বিশাল শো-ডাউন করেছিল জেলা বিএনপি। আর সেটাই ছিল শেষ শো-ডাউন। এরপর থেকে রাজপথে দেখা যায়নি সভাপতি কাজী মনিরকে। বর্তমানে তিনি নিজের শিল্প প্রতিষ্ঠান নিয়েই বেশি ব্যস্ত সময় পাড় করছেন। এতে করে রাজপথে জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা অনেকা ঝিমিয়ে পড়েছে। আর নতুন কমিটি ঘোষনাকে কেন্দ্র করে যখন নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হচ্ছিল তখন কমিটি শিল্পপতিদের দখলে চলে যাচ্ছে এমন খবরে মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা পুনরায় হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন।

Post a Comment

0 Comments