সমিতির টাকা ফেরত পেতে অর্থ আত্মসাৎকারীর বাড়ী ঘেরাও


স্টাফ রিপোর্টারঃ
বন্দর উপজেলার ধামগড় ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের খোছেরছড়া এলাকার বাসিন্দা নজরুল ইসলামের স্ত্রী তাসলিমা আক্তারের হারিয়ে যাওয়া একটি ব্যাংকের চেকবই রাস্তায় কুড়িয়ে পেয়ে একই এলাকার দ্বীন ইসলাম তার স্ত্রী শিল্পী আক্তার উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অসহায় নিরাপরাধ তাসলিমা তার পরিবারকে হয়রানী করছে বিধায় ১৮ অক্টোবর শুক্রবার সকালে স্থানীয়রা বিক্ষোভ প্রদর্শন সহ ২৫০ জনের সমন্বয়ে করা একটি সমিতির টাকা আত্মসাৎ করে দেড় বছর ধরে পালিয়ে বেড়ানোর কারণে প্রতারক দ্বীন ইসলামের বাড়ী ঘেরাও করে সমিতির গ্রাহকরা। ২৫০ জন গ্রাহক তারা ১০০ টাকা করে ৪৮ কিস্তি দেয়ার পর তাদের টাকা নিয়ে খোছেরছড়া এলাকার প্রতারক দ্বীন ইসলাম পালিয়ে যায় বলে সাংবাদিকদের জানান ভূক্তভোগীরা। 
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২৫/০৪/২০১৮ তারিখে প্রিমিয়ার ব্যাংক মদনপুর শাখা তাসলিমাকে ১৫৭-০০১২১০০০০৩০০৫ তার হিসাব নম্বরের বিপরীতে একটি চেক বই ইস্যু করে এবং আনুমানিক সকাল ১১টায় বাড়ী ফেরার পথে তাসলিমা চেক বইটি হারিয়ে ফেলে। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও চেক বইটি না পেয়ে ০১/০৫/২০১৮ তারিখে বন্দর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করে। যা নম্বর-২০। ভূক্তভোগী নজরুল জানান, তার কিছু দিন পর একটি মামলার নোটিশ আমাদের কাছে আসে। সেখানে উল্লেখ থাকে যে, আমার স্ত্রী তাসলিমার কাছ থেকে আমাদের এলাকার শিল্পী আক্তার ১০ লক্ষ টাকা পাবে। আমার স্ত্রী তাসলিমা শিল্পীর কাছ থেকে নাকি ১০ লক্ষ টাকা ধার নিয়েছে এবং বিনিময়ে প্রিমিয়ার ব্যাংকের ১০ লক্ষ টাকার একটি চেক জামানতস্বরূপ শিল্পীকে দিয়েছে। তখনি আমরা বুঝতে পারি এটা আমাদের হারিয়ে যাওয়া চেক বইয়ের চেক দিয়ে আমাদের হয়রানী করতে আমাদেরকে ধোকা দিয়ে টাকা আদায় করতে কারসাজি করে একটি মামলা দায়ের করেছে। বিষয়টি আমরা ধামগড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুম আহম্মেদকে জানালে ৩১/০১/২০১৯ তারিখে ইউনিয়ন পরিষদে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে একটি সালিশী বসে। যেখানে এডভোকেট ইসহাক মিয়া, কাউন্সিলর কামরুজ্জামান বাবুল, সাবেক কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম আনোয়ার হোসেন আনু, মোতালিব মেম্বার, আইয়ুব মেম্বার, সাবেক মেম্বার শাহালম সহ এলাকার অসংখ্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা উপস্থিত ছিলেন এবং সেখানে উপস্থিত সকলের সম্মুখে শিল্পী স্বীকার করে যে, তাসলিমার নিকট তার কোন দেনা-পাওনা নেই। চেকটি সে রাস্তায় কুড়িয়ে পেয়েছে এবং অবৈধ লাভের আশায় তাসলিমার সাথে নানান তালবাহানা করছে। এতকিছুর পরেও নিরাপরাধ তাসলিমার বিরুদ্ধে গত সপ্তাহে ওয়ারেন্ট জারি হওয়ায় হতাশা ব্যক্ত করেছেন তার পরিবার, স্থানীয় জনসাধারণ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা।
বিষয়ে ভূক্তভোগী নজরুল ধামগড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুম আহম্মেদের শরানাপন্ন হলে ০৮/০৯/২০১৯ তারিখে ইউনিয়ন পরিষদের প্যাডে চেয়ারম্যান মাসুমের স্বাক্ষরে একটি প্রত্যয়ণপত্র দেয়া হয়। প্রত্যয়ণপত্রে লিখা হয়েছে যে, ৩১/০১/২০১৯ তারিখে ইউনিয়ন পরিষদে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে একটি সালিশী বসে। যেখানে উপস্থিত ১০০ লোকের সম্মুখে ১ম পক্ষ শিল্পী স্বীকার করে যে, ২য় পক্ষ তাসলিমার নিকট তার কোন দেনা-পাওনা নেই। তাসলিমার চেকটি শিল্পী রাস্তায় কুড়িয়ে পেয়েছে এবং অবৈধ লাভের আশায় শিল্পী ২য় পক্ষ তাসলিমার সাথে নানান তালবাহানা করছে। বিষয়টি নিস্পত্তির জন্য ২য় পক্ষকে উচ্চ আদালতে যাবার পরামর্শ দেয়া হলো। এদিকে শিল্পীর বিষয়ে ভূক্তভোগীরা আরও জানান যে, শিল্পী ব্যক্তিগত পর্যায়ে এক ধরণের ভিন্ন প্রকৃতির মহিলা। ৩০-৪০টি ক্ষুদ্র ঋণের অফিস থেকে মাসিক কিস্তিতে অর্থ ঋণ নিয়েছে, যেগুলো ঠিকমতো দিতে পারছেনা। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের সাথে তালবাহান করে যাচ্ছে। অন্য মহিলাদেরকেও ফুসলিয়ে বিভিন্ন জায়গা থেকে ঋন নিয়ে সে অর্থ আত্মসাৎ করায় এবং তালাবাহানা করায় নিরাপরাধ অসহায় অনেক মহিলা শিল্পীর ঋণের বোঝা বয়ে যাচ্ছে। এলাকার ২৫০ জনের সমন্বয়ে করা একটি সমিতির টাকা আত্মসাৎ করে তার স্বামী দ্বীন ইসলাম প্রায় দেড় বছর ধরে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। বর্তমানে ভূক্তভোগী নজরুল তার স্ত্রী তাসলিমা আইনের সুশাসন পেতে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

Post a Comment

0 Comments