মিয়ানমারের সীমান্ত-লাগোয়া পার্বত্য
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে দৌছড়ির পাহাড়ে
আশু ত্রিপুরা সংসারের ৬ সদস্য নিয়ে বসবাস করেন। তার নিজস্ব কোন জমিজমা
নেই। সরকারি পরিত্যাক্ত পাহাড়ে কলা ও জুম চাষ করে তার জীবন চলে সারা বছর।
তার কলা বাগান রয়েছে ১০ কানি।
পাহাড়ি ঢালুতে করা প্রতিকানি বাগানে কলা
গাছ রয়েছে ৮শ'র বেশি। বর্ষায় কিছু কলা গাছ নষ্ট হলেও সুদিনে তেমন হয় না। এই
কলা বিক্রির টাকা দিয়ে চলে তার সংসার। তাদের কলা চাষই ভরসা। কলা বিনে
তাদের জীবন অচল। বর্তমানে তারা খুবই সুখে আছেন।
এ ভাবে আশু ত্রিপুরার মতো পাহাড়ি জনগোষ্ঠী
চাইলা অং চাক, থ্যোইলা মার্মা, মো. আবুল কালাম, ছৈয়দ কাশেম ও সোনাইছড়ির
নবী হোসেন সকলেই কলা চাষে ভরসা। কলা চাষ করে সুখে জীবন কাটান নাইক্ষ্যংছড়ির
বিভিন্ন পাহাড়ি গ্রামের এ সব লোকজন। এ কলাই এখানকার পাহাড়ি জনবসতির
জনপ্রিয় চাষ। আশু ত্রিপুরা জানান, তার গ্রামের আশপাশের সকলেই কলা চাষী।
সোনাইছড়ির কলা চাষী নবী হোসেন জানান, কলা
চাষ করেই জীবনের পথ চলা। জুম চাষ ও অন্যান্য চাষ থাকলেও এসব দিয়ে জীবনের
চলার নিশ্চয়তা নেই। কিন্তু কলা চাষে কোন ঝুঁকি নেই তাদের।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ভারপ্রাপ্ত কৃষি
কর্মকর্তা মো. এনামূল হক জানান, নাইক্ষ্যংছড়ির পাহাড়গুলো খুবই উর্বর।
কৃষকরা যা রোপন করেন তাতে ভালো ফলন আসে। বিশেষ করে কৃষকদের কাছে জনপ্রিয়
চাষ কলা এখানকার কৃষকদের দ্বিতীয় অর্থকরী ফসল। প্রথমটা তো ধান। তাই তারা এ
চাষ নিরাপদ মনে করেই সংসারের ঘানি টানেন।
তিনি আরো বলেন, পুরো উপজেলায় ১৩ শত হেক্টর
কলা বাগান রয়েছে। এ বাগানে প্রকৃতিগতভাবে কলা উৎপন্ন হয়। আর কৃষি অফিস এ
বাগানসমূহে সরকার প্রদেয় সুযোগ সুবিধাগুলো প্রদান করেন। এ ছাড়া চাষিদের
নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। বর্তমানেও কৃষকদের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে তথ্য
প্রযুক্তির ব্যবহার বিষয়ে প্রশিক্ষণ চলছে।
তিনি বলেন, এ বছর পরিবেশ ও আবহাওয়া ভালো থাকায় নাইক্ষ্যংছড়িতে কলার বাম্পার ফলন হয়েছে।


0 Comments