ভোলায় ইসলাম ধর্ম অবমাননার ঘটনায় সৃষ্ট সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনায় সমাবেশে যোগদিতে গতকাল সোমবার দুপুর থেকেই নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার তৌহিদী জনতা ডিআইটি চত্বরে জমায়েত হতে থাকে। এক পর্যায়ে জনতার উপস্থিতি দুই কিলোমিটার ছাড়িয়ে গেলে র্যাব পুলিশকে হিমশিম থেকে হয়। নারায়ে তাকবির আল্লাহ আকবার ধ্বনী দিয়ে শহর প্রকম্পিত করে তুলে তৌহিদী জনতা। বাদ আসর সমাবেশের আয়োজক নারায়ণগঞ্জ ওলামা পরিষদ।
তবে এর আগেই ২নং রেলগেইট হতে মন্ডলপাড়া পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু সড়কের দুইপাশে লাখ জনতার সমাবেশ ঘটে।
গতকাল সোমবার বাদ আছর শহরের ডিআইটি জামে মসজিদের সামনে বঙ্গবন্ধু সড়কে সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিতি আলেম ওলামারা বলেন, ‘সারাদেশে তৌহিদী জনতার হৃদয়ে যে আগুন জলে উঠেছে সেটা বঙ্গোপসাগরের পানিতেও নিভবে না। তাই প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন ভোলার যে ঘটনা ঘটেছে সেটার কঠোর বিচার করেন। নতুবা সামনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে।’ জেলা ওলামা দলের সভাপতি মাওলানা আবদুল আউয়াল বলেন, ‘নবীর বিরুদ্ধে কটূক্তি হবে আর তৌহিদী জনতা ঘরে বসে থাকবে সেটা হয় না। যারা এ
ঘটনায় জড়িত তাদের ফাঁসি কাষ্ঠে ঝুলাতে হবে।’ জেলা হেফাজতে ইসলামের সমন্বয়ক ফেরদাউসুর রহমান বলেন, ‘২ ঘণ্টার আলটিমেটামে নারায়ণগঞ্জ অচল হয়ে যাবে যদি আমরা চাই। যদি আবদুল আউয়াল হরতালের ডাক দেয় তাহলে একটি সাইকেলও চলবে না।’ ওলামা পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলার অন্যতম নেতা মাওলানা ইসমাইল হোসেন সিরাজী বলেন, একজন অমুসলিম মুসলমানদের হৃদয়ের স্পন্দন, মুসলমানদের দিলের টুকরা (সা:) কে গালি দিল আর মুসলমানদের কলিজায় কুঠারের আঘাত করল। মুসলমানেরা সেই কুঠারের ব্যথায় ব্যথিত হয়ে রাজপথে সেই জালেমের বিচার চাইলো আর
সেই ব্যথিত মুসলমানদের উপর একদল জালেম জাতি ভাইয়েরা কোন কারণ ছাড়াই কারো পক্ষ নিয়ে কারো দালালি করে বুকের উপর নির্বিচারে গুলি চালালো।
কিসের আশায় কিসের লোভে তারা গুলি চালালো আমি জানি না। তারা স্ব জাতি ভাই আমাদের।
এই স্ব জাতি ভাই হয়ে আমাদের ব্যথিত হৃদয়ে মুসলমানদের পাখির মত নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে কাদের ইশারায়? তিনি বলেন, সরকারকে বলি আপনি যদি সত্যি দেশকে ভালোবেসে থাকেন আপনি যদি সত্যি ৯৯ভাগ জনগনকে মুহব্বত করে থাকেন তাহলে ইসকন নামের হিন্দু উগ্রবাদী সংগঠনকে নিষিদ্ধ করুন।
রসুলকে যে গালি দিয়েছে, মুসলমানদের হৃদয়ে যে আঘাত করেছে তাকে প্রকাশ্যে ফাঁসি দিন।
যদি আপনি ওই
মুসলমানদের ব্যাথাকে পূরণ না
করেন তাহলে মনে রাখবেন মুসলমানদের হৃদয়ে যে
আগুন জ্বলেছে সেই আগুন আপনাকে ধ্বংস করে ছেড়ে দিবে।
আরো বক্তব্য রাখেন খেলাফত মজলিশের সভাপতি সিরাজুল মামুন, মহানগরের সভাপতি ডা. মোসাদ্দেক, হেফাজত নেতা আবদুল কাদির, মহানগর ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি মুফতি মাসুম বিল্লাহ, মাওলানা ইসমাইল হোসেন সিরাজি, হারুন অর রশিদ, কামালউদ্দিন দায়েমী প্রমুখ।


0 Comments