খুনিদের বিচার দাবিতে উত্তাল সারাদেশ

সাম্প্রতিক বাংলাদেশ-ভারত চুক্তি নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ায় শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে (২১) বর্বরভাবে পিটিয়ে হত্যায় জড়িত ছাত্রলীগ নেতাদের ফাঁসি ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবন বহিষ্কারসহ আট দফা দাবিতে সারাদেশে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। গতকাল সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়সহ (বুয়েট) উত্তাল ছিল বিভিন্ন ক্যাম্পাস। দাবি দ্রুত কার্যকর করা না হলে ভর্তি পরীক্ষাসহ শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণা দেয় বুয়েট শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, জগন্নাথ, বরিশাল, খুলনা ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ও গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, নোয়াখালী, পটুয়াখালী, বি.বাড়িয়া ও গফরগাঁওসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আন্দোলনে নামেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। মেধাবী শিক্ষার্থী আবরারের বর্বর হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছাত্রলীগ নেতাদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল শেষে গায়েবানা জানাজায় অংশ নেন তারা। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওঠে ঘৃণার ঝড়।
এদিকে মেধাবী ছাত্র আবরারের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ৩৭ ঘণ্টা পর গতকাল সন্ধ্যায় আন্দোলরত শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি হন বুয়েটের ভিসি (উপাচার্য) অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম। এ সময় তিনি চরম তোপের মুখে পড়ে প্রশ্নবানে জর্জরিত হন। উত্থাপিত দাবিগুলো নৈতিকভাবে মেনে নেয়ার আশ্বাস দিলেও এতে আশ্বস্ত হতে না পারায় আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। পরে ভিসিকে তার কক্ষে রাত ১০টা পর্যন্ত অবরুদ্ধ রাখেন শিক্ষার্থীরা।
অন্যদিকে আবরারকে পরিকল্পিতভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তার বাবা বরকত উল্লাহ্। তিনি বলেন, বিনা অপরাধে আমার ছেলেকে অন্তত ১৫ জন মিলে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। বুয়েটের শেরেবাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে টানা ছয় ঘণ্টা ধরে নির্যাতন চালিয়ে আমার ছেলেকে হত্যা করেছে ছাত্রলীগ নেতারা। আমি সবার ফাঁসি চাই। গতকাল সকালে কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই রোডে আবরার দ্বিতীয় জানাজা শেষে কান্নায় ভেঙে পড়ে এসব কথা বলেন হতভাগা বাবা।
অপরদিকে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় নতুন করে তিনজন ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে এ হত্যা মামলায় মোট ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হলো। এর আগে সোমবার রাতে গ্রেফতার ১০ ছাত্রলীগ নেতাকে পাঁচদিন হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করবে পুলিশ। চকবাজার থানায় আবরারের বাবার করা মামলায় পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। যাদের রিমান্ডে আনা হয়েছে তারা হলেন-বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল (সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, দ্বিতীয় বর্ষ), সহ-সভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদ (সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, দ্বিতীয় বর্ষ), সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং), তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং), ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন (নেভাল আর্কিটেকচার অ্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং), উপসমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল (বায়ো মেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং), সদস্য মুনতাসির আল জেমি (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ), মুজাহিদুর রহমান মুজাহিদ (ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং) এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভির ও একই বিভাগের ইসতিয়াক আহম্মেদ মুন্না।
এদিকে আবরারকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় চকবাজার থানায় দায়ের করা মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশে (ডিবি) হস্তান্তর করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া) মো. মাসুদুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে নিহত ছাত্রের বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে সোমবার রাতে চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। বুয়েট কর্তৃপক্ষ একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে। পাশাপাশি গঠন করেছে একটি তদন্ত কমিটিও। এ ঘটনায় জড়িত বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের ১১ নেতাকে বহিষ্কার করে দলটি। এ হত্যাকাণ্ডে সরাসরি ১৪ জন জড়িত বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রোববার গভীর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে নিরীহ ছাত্র আবরার ফাহাদকে হত্যার পর খবর শুনেও সেখানে যাননি বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম। সোমবার দিনভর এ নিয়ে বুয়েট ক্যাম্পাসে উত্তাল হলেও ভিসিকে দেখা যায়নি। এমনকি রাতে আবরার জানাজায় অংশ নেননি তিনি। তার এই রহস্যজনক আচরণে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাদের একটাই প্রশ্ন- ভিসি কোথায়? ছাত্রদের আলিটমেটামের মুখে ঘটনার ৩৬ ঘণ্টা পর গতকাল সন্ধ্যা ছয়টার দিকে শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি হন ভিসি।
নৈতিকভাবে দাবি মেনে নিচ্ছি: শিক্ষার্থীদের বুয়েট ভিসি : বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের প্রায় ৩৬ ঘণ্টা পর শিক্ষার্থীদের সামনে আসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম। সামনে এসেই তিনি শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েন। এ সময় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ভিসি বলেন, তোমরা যা দাবি দিয়েছ তোমাদের দাবির সঙ্গে নৈতিকভাবে একমত পোষণ করছি। শিক্ষার্থীদের চাপের মুখে তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বহিষ্কারসহ সকল দাবি মেনে নেয়া হবে। ছাত্র খুনের বিষয় সরকার ও শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করেছি। এ সময় শিক্ষার্থীরা ভিসিকে দাবিগুলো পড়ে শুনিয়ে ঠিক কোন কোন দাবি মানা হলো- তা জানতে চাইলে বিষয়টি এড়িয়ে চলে যেতে চান ভিসি। একপর্যায়ে ভিসিকে শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন করেন, আবরার হত্যার ঘটনার পর তিনি কেন ক্যাম্পাসে আসেননি? জবাবে ভিসি বলেন, আমি ক্যাম্পাসে ছিলাম। কিন্তু আবরারের হত্যার ৩৬ ঘণ্টা পর মঙ্গলবার বিকেল ৫টার মধ্যেও কেন ভিসি ক্যাম্পাসে আসেননি, কেন তাকে আলটিমেটাম দিয়ে ক্যাম্পাসে আনতে হলো? ভিসির কাছে এর জবাব চেয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের এসব প্রশ্নের জবাবে ভিসি বলেন, আমি সারাদিন মন্ত্রী মহোদয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, মিটিং করেছি। এগুলো না করলে দাবিগুলোর সমাধান হবে কীভাবে। সব তো আমার হাতে নেই। সরকারকে কনভিন্স করে আমাকে চলতে হয়। শিক্ষার্থীদের আলাদা ডেকে নিয়ে কথা বলার প্রস্তাব দিলে ভিসির সে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘ভুয়া ভুয়া’ বলে সেøাগান দিতে শুরু করেন। ভিসি শিক্ষার্থীদের বলেন, তোমাদের দাবির সঙ্গে আমি একমত। উদ্ভ‚ত সমস্যা সমাধানের উপায় বের করা হচ্ছে। আমি কাজ করে যাচ্ছি। স্যার আপনি কী কাজ করছেন? এক শিক্ষার্থীর এ প্রশ্নের উত্তরে ভিসি বলেন, তোমাদের এই ব্যাপারটি নিয়ে কাজ করছি। আমি সোমবার রাত ১টা পর্যন্ত কাজ করেছি। ভিসির জবাবে আশ্বস্ত হতে পারেননি শিক্ষার্থীরা। পরে সন্ধ্যা সাতটার পর নিজ কার্যালয়ে প্রবেশ করেন ভিসি। এ সময় বাইরে থেকে তার কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্র্থীরা। পরে তার কক্ষের বাইরে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীরা। ঘোষণা দেন আবরার হত্যার দাবিতে প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে।
ঘাতকদের ফাঁসি ও বহিষ্কারসহ আট দফা দাবিতে উত্তাল বুয়েট: বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের হত্যাকারীদের ফাঁসিসহ ৮ দফা দাবিতে বিক্ষোভ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ দাবিতে গতকাল সারাদিন উত্তাল ছিল বুয়েট ক্যাম্পাস। এতে নিহত আবরার সহপাঠীসহ অধিকাংশ শিক্ষার্থী অংশ নেন।
শিক্ষার্থীদের আট দফা দবিগুলো হলো খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবন বহিষ্কার করতে হবে, আবাসিক হলগুলোতে র‌্যাগের নামে এবং ভিন্নমত দমানোর নামে নির্যাতন বন্ধে প্রশাসনের সক্রিয় ভ‚মিকা নিশ্চিত করতে হবে, ঘটনার ৩০ ঘণ্টা পরও ভিসি কেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হননি মঙ্গলবার বিকেল ৫টার মধ্যে ক্যাম্পাসে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে তার জবাব দিতে হবে, আবরার হত্যা মামলার খরচ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বহন করতে হবে, এর আগের ঘটনাগুলোর বিচার করতে হবে, ১১ অক্টোবরের মধ্যে শেরেবাংলা হলের প্রভোস্টকে প্রত্যাহার করতে হবে এবং ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতির স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে। এ ছাড়া আগামী সাত দিনের মধ্যে বুয়েট সব ছাত্রসংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ঘোষণা দেয় তারা।
গতকাল সকাল সাড়ে দশটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ার সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়ক প্রদক্ষিণ করে বুয়েট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বুয়েটে ক্লাস-পরীক্ষা ও একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা দিয়েছে আন্দোলনকারীরা। শিক্ষার্থীরা জানায়, আবরার হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করেন বুয়েটের ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক অধ্যাপক মিজানুর রহমান। এ সময় শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের জন্য তার কাছে দাবি জানান। শিক্ষার্থীরা বলেন, যে ঘটনা ঘটল ক্যাম্পাসে। তাতে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের ঘোষণা দেয়া জরুরি। দুপুরে বুয়েট শহীদ মিনারের পাদদেশে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কাছে গিয়ে একাত্মতা প্রকাশ করেন বুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. একেএম মাসুদ রানা।
এ ছাড়া চলমান এই আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থীরা। গতকাল সাবেক শিক্ষার্থীরা পলাশী মোড় থেকে একটি পদযাত্রা নিয়ে শহীদ মিনারে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন। এ সময় তারা ‘আমার সেই গর্বের ক্যাম্পাস ফিরিয়ে দাও’ লেখা সম্বলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। বুয়েটের ৮৫ ব্যাচের শিক্ষার্থী কথা সাহিত্যিক আনিসুল হক বলেন, বুয়েটে সারাদেশের সবচেয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীদের তুলে আনা হয়। পৃথিবীর সব জায়গায় বুয়েটের সুনাম রয়েছে। অথচ বুয়েটের মেধাবী শিক্ষার্থীকে এমন পরিণতি ভোগ করতে হলো।
আরো ৩ আসামি গ্রেফতার: এদিকে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আরো তিনজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগ (ডিবি)। তারা হলেনÑশামসুল আরেফিন রাফাত (২১), মনিরুজ্জামান মনির (২১) ও আকাশ হোসেন (২১)। এ নিয়ে এ মামলায় মোট ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হলো।
গতকাল নতুন করে গ্রেফতার তিনজনের মধ্যে মনিরুজ্জামান মনির ও আকাশ হোসেন আবরার হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। তবে শামসুল আরেফিনকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
যেভাবে হত্যাকাণ্ড: আবরার বুয়েটের শেরেবাংলা হলের যে কক্ষে থাকতেন, সেই ১০০১ নম্বর কক্ষ ও আশপাশে কক্ষগুলোর শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়া শহরের বাড়ি থেকে রোববার বিকেল ৫টার দিকে হলে ফেরেন আবরার। সন্ধ্যার পর নিজের কক্ষেই পড়ালেখা করছিলেন। রাত ৮টার দিকে ছাত্রলীগের কয়েক কর্মী আবরারের কক্ষে গিয়ে ডেকে নিয়ে আসেন। এরপর তাকে নিয়ে যাওয়া হয় ২০১১ নম্বর কক্ষে। এই কক্ষে থাকেন ছাত্রলীগের চার নেতা। সেখানে তার মোবাইল ফোন তল্লাশি করেন নেতারা। ওই কক্ষে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল ও সহসভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদ। তারা আবরার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে সেটি যাচাই করেন।
এক পর্যায়ে আবরারকে তার ফেসবুক আইডি খুলতে বলেন। পরে তারা তার ফেসবুক ও মেসেঞ্জার ঘেঁটে তাকে শিবিরের নেতা হিসেবে আখ্যা দেন। এর পরই ওই দুই নেতার সঙ্গে থাকা আরো কয়েকজন তাকে মারধর শুরু করেন। আবরারকে ক্রিকেট খেলার স্টাম্প দিয়ে এলোপাতাড়ি পেটানো হয়। ‘শিবির ধরা হয়েছে’Ñ এমন খবর পেয়ে সেখানে সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেলের অনুসারী আরো সাত থেকে আটজন নেতা জড়ো হন। তারাও সেখানে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এক পর্যায়ে নিস্তেজ হয়ে যায় আবরার দেহ। রাত আড়াইটার দিকে তাকে ওই কক্ষ থেকে বের করে হলের সিঁড়িতে ফেলে রাখা হয়।

Post a Comment

0 Comments