জাসদের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা ও নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার বলেছেন, ৬ দফা ও ১১ দফা আন্দোলনে শেষে ৭০ সালে নির্বাচনের আওয়ামীলীগ অংশ নিয়ে ছিল। তখন অনেকে নির্বাচনের বিপক্ষে ছিলেন। ওই নির্বাচনে যাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার এই সিদ্ধান্তের কারণে ইয়াহিয়া খান পরিকল্পনা করলেন, যদি আওয়ামীলীগ নির্বাচনে জয়ী হয়ে যায়, তাহলে আমাদের সব শেষ। তাই তারা পাক হানাদার বাহিনী সেই কালো রাতে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়া থেকে পিছিনে ফেলে দেয়। কিন্তু আমরা বাংলা মুক্তিযোদ্ধা তখন যুবক ছিলাম, সকলে আখাউড়া থেকে ট্রেনিং নিয়ে বাংলাদেশে এসে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়ে ছিলাম। সেই কাঙ্গিত বাংলাদেশ ছিনিয়ে আনতে আমাদের সময় লেগে ছিল প্রায় ৯ মাস। কিন্তু যে স্বাধীনতা চেয়ে ছিলাম, সে সফলতা এখনো পায়নি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি স্বাধীনতা পক্ষে লোক দিয়ে দেশ পরিচালনা করতেন, তাহলে এত দুনীতি হত না। ভাল মানুষ তার পাশে বা দেশের সেবা কাজ করতে পারে না। জাসদ লাইসেন্সধারী, দলবাজী, টেন্ডারবাজী বা ক্যাসিনোবাজী করে না।
২৯ অক্টোবর মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৪টায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জাসদের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জেলা জাসদের কাজী আরেফ মিলনায়তনে দুর্নীতি ও জঙ্গিবাদ নির্মূল করে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নারায়ণগঞ্জ জেলা জাসদের আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন, জাসদের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ জেলা সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহর আলী চৌধুরী, জেলা জাসদের সহ-সভাপতি একেএম ইব্রাহিম, সহ-সভাপতি সৈয়দ হোসেন, প্রচার সম্পাক কমরেড বাচ্চু মিয়া, সহ-সম্পাদক হাবিবুল্লাহ, সমাজসেবা সম্পাদক মাসুদ চৌধুরী প্রমুখ।
জাসদের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ জেলা সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহর আলী চৌধুরী বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ সরকার গঠনে পরিকল্পনা করা হয় আগারগাঁওয়ে। সেই পরিকল্পনা পেয়ে যান পাকহানাদারা বাহিনী। হঠাৎ তারা ২৫ শে মার্চ কালো রাতে বাংলাদেশ স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করার লক্ষ্যে হামলা করা হয়। এই হামলা যেন বাংলাদেশ পক্ষের সকল লোকজন যেন বিলীন হয়ে যায়। তখন আমাদের মত যুবকরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীণতা যুদ্ধে নেমে পড়ি, এবং বাংলাদেশ স্বাধীন করি। পরে তৎকালীন কর্ণেল তাহের সাহেব দেশে সু-শাসনের লক্ষ্যে জাসদ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী করা হয়। তখন নারায়ণগঞ্জের প্রয়াত এনায়েত উল্লাহ, শাহ পরান উদ্দিন, সুরুজ মিয়া, মেজর মীর মোস্তফা ও রহমত উল্লাহ জাসদ প্রতিষ্ঠাতাকালে ছিলেন। বতর্মান সরকার ১৪দলের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে। এই ১৪ দলের উন্নয়নগুলো ধরে রাখার জন্য সকলকে একসাথে কাজ করে যেতে হবে। অর্থনৈতিক উণ্নয়ন এখন ঘরে ঘরে পৌছে দিচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশে অস্থিরতা চক্রান্ত চলছে, তাই জনগণকে সজাগ থাকতে হবে।


0 Comments