থমকে গেল রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ভাসানচরে
স্থানান্তর প্রক্রিয়া। কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের চাপ কমাতে বাংলাদেশ
সরকারের পক্ষ থেকে শীতের আগেই এক লাখ রোহিঙ্গাকে নোয়াখালীর ভাসানচরে
স্থানান্তর সব প্রস্তুতি নেয়া হয়েছিল। অনেক রোহিঙ্গার এতে সম্মতিও ছিল।
স্বেচ্ছায় তালিকাভুক্ত হয়েছিল সাড়ে ৩ হাজার রোহিঙ্গা। শেষমেশ আন্তর্জাতিক
মহলের সম্মতি না পাওয়ায় সফল হচ্ছে না এই উদ্যোগটি। তবে ভাসানচরে সরকার
রোহিঙ্গা স্থানান্তরের চেষ্টা অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
শাহরিয়ার আলম গণমাধ্যমকে বলেন, এক লাখ রোহিঙ্গাকে স্থানান্তরের জন্য
ভাসানচর পুরোপুরি প্রস্তুত। গত বর্ষা মৌসুমের আগেই সরকার রোহিঙ্গাদের
ভাসানচরে স্থানান্তরে শুরু করতে চেয়েছিল- সেটা তখন সম্ভব হয়নি। এখন আবার
শীতের আগে স্থানান্তরের চেষ্টাও থমকে গেছে।
এ প্রসঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং
ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, স্থানান্তরের
উদ্যোগে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মতি মিলছে না। কিছু পরিবার স্বেচ্ছায়
যেতে চেয়েছিল, সে ব্যাপারে আমরা প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। কিন্তু যেহেতু আমরা
এই মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে জাতিসংঘ এবং ইউএনএইচসিআরসহ আন্তর্জাতিক
সংস্থার ওপর নির্ভরশীল, সে জন্য আমরা তাদের সঙ্গে বসেছি। কয়েক দফা বৈঠকের
পরও জাতিসংঘ, ইউএনএইচসিআর এবং আইওএমসহ অন্য সংস্থাগুলো এখন পর্যন্ত সেখান
যাওয়ার পক্ষে মতামত দেয়নি। যার কারণে আমরা এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে
পারিনি। সত্যি কথা বলতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মতি না পাওয়ায় এটা
আটকে আছে।
তিনি জানান, রোহিঙ্গাদের ৬৪০টি পরিবারের
সাড়ে তিন হাজার জন ভাসানচরে স্থানান্তরের জন্য স্বেচ্ছায় তালিকাভুক্ত
হয়েছিলেন, এরপর তাদের ভাসানচরে নেয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক
সংস্থাগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে সপ্তাহখানেক আগে। কিন্তু আন্তর্জাতিক
সংস্থাগুলো সম্মতি দেয়নি। বাংলাদেশ সরকার স্থানান্তর করার চেষ্টা অব্যাহত
রাখবে বলে কর্মকর্তারা বলছেন। তবে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বলছে, এই
স্থানান্তর স্বেচ্ছায় হতে হবে। সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পর তা করতে
হবে। সে জন্য তারা বাংলাদেশ সরকারকে আরো সময় নেয়ার কথা বলছে।
সূত্র জানায়, ২০১৫ সালে প্রথম ভাসানচরে
শরণার্থীদের বসবাসের জন্য আবাসন গড়ার পরিকল্পনা করা হয়। সে সময় চরটিতে কোনো
জনবসতি ছিল না। কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের চাপ কমাতে ২০১৮ সালের ফেব্রæয়ারিতে
উন্নত সুবিধাসহ নোয়াখালীর ভাসানচরে ৪৫০ একর জমির ওপর শিবির নির্মাণের
প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে
বাংলাদেশ নৌবাহিনী।
বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে ভাসানচরে নির্মিত
স্থাপনা দেখে ও সেখানে রোহিঙ্গাদের চলাচল, শিশুদের পড়ালেখার সুয়োগ-সুবিধা
এবং নিজেরা স্বাবলম্বী হয়ে ওঠার বিষয়াদি বুঝতে পেরে স্বেচ্ছায় ভাসানচরে
যেতে রাজি হয়েছিল রোহিঙ্গারা। কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগ ছাড়া স্বেচ্ছায় যারা
যেতে চান সেই আগ্রহীদের তালিকা করে সরকার। চলতি মাসে পর্যায়ক্রমে ওইসব
রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। ভাসানচরের দায়িতপ্রাপ্ত
কর্মকর্তাদের নিরলস প্রচেষ্টায় এক লাখ রোহিঙ্গাকে স্থানান্তরের জন্য
ভাসানচরকে পুরোপুরি প্রস্তুত করেছিল।
এ প্রসঙ্গে শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন
কমিশনার মাহাবুব আলম তালুকদার মানবকণ্ঠকে বলেন, সরকার রোহিঙ্গা
স্থানান্তরের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। তবে আমরা জোর করে কাউকে ভাসানচরে পাঠাব
না। আর রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরের বিষয়ে নতুন কোনো সীদ্ধান্ত
হয়নি। ঊর্ধ্বতন মহল থেকে সিদ্ধান্ত পেলে আমরা সে অনুযায়ী কাজ শুরু করব।


0 Comments