অতিথি পাখি নিধনকে না বলি, জীব- বৈচিত্র রক্ষা করি


শহর সংবাদদাতা: শীতে অতিথি পাখিরা আসে হিমেল সমুদ্র পাড়ি দিয়ে। অপেক্ষাকৃত উষ্ণ আবহাওয়ায় সুখ অনুভব করতে হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে ঝাঁকে ঝাঁকে, দলবেঁধে পাখিরা আসে রৌদ্রোজ্জল পরিবেশ আর ঠান্ডা রোদের মিশেল আবহাওয়ার দেশ বাংলাদেশে। দেশের বিভিন্ন জলাশয়ে মতো নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী জিউস পুকুরেও নিজেদের আহার যোগাতে প্রতিদিন ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখি আসা শুরু হয়েছে। শীত মৌসুমে খাবার আর নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে অতিথি পাখিরা আসে। তবে কিছু অসাধু চোরাকারবারি ফাঁদ পেতে পাখি শিকার করে, তাই পাখি শিকারিদের হাত থেকে অতিথি পাখিদের রক্ষা করার জন্য মানববন্ধন করেছে সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনমানুষের জন্য আমরা অতিথি পাখি নিধনকে না বলি, জীব-বৈচিত্র রক্ষা করি এই শ্লোগানকে সামনে রেখে শনিবার (০৯ নভেম্বর) সকালে দেওভোগের জিউস পুকুর এলাকায় মানববন্ধন করেছে সংগঠনটির সদস্যরা।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেনমানুষের জন্য আমরাসংগঠনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোশারফ হোসেন, সহ-সভাপতি তারক ঘোষ। এছাড়াও সংগঠনের আবু সায়েম, মনির হোসেন, ইব্রাহীম, রাজিব, মাসুদ, মোঃ কবির হোসেন, সাবা তানি, ঝর্ণা মনি জয়া, সাগর, অন্যন্যা, খাদিজাতুল কোবরা প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, শীতকাল এলেই অতিথি পাখিদের কলকাকলিতে মুখর হয় আমাদের দেশ। আমাদের জিউস পুকুর এলাকাসহ দেশের প্রায় প্রতিটি জেলাতেই শীতের অতিথি পাখিদের দেখা যায়। মূলত আমাদের দেশে আসে সাইবেরিয়া এবং হিমালয় অঞ্চলের পাখিরা। বহু বছর ধরে শীত মৌসুমে বাংলাদেশে অতিথি পাখি এলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন কারনে অতিথি পাখি আসাটা কমে যাচ্ছে। এসব পাখির জীবনযাপন পরিবেশ দিন দিন অনিরাপদ হয়ে উঠছে। যে পাখিরা শুধু জীবন খাদ্যের সন্ধানে আমাদের মতো দেশে আসে; নিজেদের অসচেতনতা লোভের বশবর্তী হয়ে কিছু লোক সেই অতিথি পাখিরই জীবন বিনষ্ট করছে বা খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করছে। এমন অমানবিক আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়।
তারা আরো বলেন, এছাড়াও আমরা বাঙালিরা অতিথি পাখি দেখতে গেলেই পাখির খুব কাছে যেতে চাই, ছবি তুলতে চাই। ক্যামেরার ক্লিক বা নীরবতা ভঙ্গ করলে পাখিরা বিরক্তরোধ করে এবং অন্যত্র চলে যায়। আমরা প্রয়োজনের অতিরিক্ত ক্যামেরায় ক্লিক দিই। একই কারনে অনেক পাখির আবাসস্থলে পাখির সংখ্যা কমে যাচ্ছে। থেকে আমাদের সর্তক হতে হবে। নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। ক্যামেরা বা শব্দযন্ত্রের ব্যবহার প্রয়োজন ছাড়া একেবারেই কমিয়ে আনতে হবে।
বক্তারা বলেন, ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ নিরাপত্তা) আইন অনুযায়ী, পাখি নিধনের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আইনের সঠিক প্রয়োগ নেই বলেই, অতিথি পাখি নিধন এবং বাজারে বিক্রি নিষিদ্ধ জেনেও আইনের ফাঁক গলিয়ে এক শ্রেনীর পেশাদার এবং সৌখিন শিকারি কাজগুলো করে চলেছে। এক্ষেত্রে প্রচলিত আইনকে প্রয়োগ করতে হবে কার্যকারভাবে। এছাড়াও তারা প্রশাসনকে তৎপরতা বাড়ানোর তাগিদ জানান।

Post a Comment

0 Comments