বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম আহবায়ক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, আমরা এমন এক দেশে বসবাস করছি যেখানে নিজেকে আইনজীবী হিসেবে পরিচয় দিতে লজ্জা লাগে।
সরকারের কথামতো রায় না দেয়ায় প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাকে প্রেশারের রোগী বলে দেশ থেকে বের করে দেয়া হয়েছিল। আরেক বিচারক তারেক জিয়াকে জামিন দেয়ায় তিনি মালয়েশিয়া পালিয়ে আছেন। আমাদের দেশের বিচারকরা এখন এসকে সিনহা আতঙ্কে ভুগছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য ফরম বিতরণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, আমাদের দায়িত্ব ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা।
বেগম খালেদা জিয়া দেশের মানুষের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে সবই হারালেন। আত্মীয় স্বজন ছেড়ে কারাগারে জীবন যাপন করছেন।
এক ছেলেকে মিথ্যা মামলা নিয়েই বিদায় হতে হলো।
সরকাররের হস্তক্ষেপ বন্ধ না হলে খালেদা জিয়ার জামিন হবে না।
আমরা গোলামী চাই না স্বাধীনভাবে বাঁচতে চাই। বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় দল হচ্ছে বিএনপি। কারণ বিএনপি বাংলাদেশের মানুষের রাজনীতি করে। খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে।
তারেক জিয়াকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে।
দেশের গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে হবে। সরকার উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার এত এত উন্নয়ন করছে বলে বেড়ায়।
তাহলে সরকারের জনপ্রিয়তা কোথায়।
এতই যদি জনপ্রিয় হতো তাহলে ৩০ তারিখের নির্বাচন ২৯ তারিখ হলো কেন।
আগের দিনেই তারা নির্বাচন করে ফেলেছেন।
আওয়ামীলীগ সরকার জনস্বার্থে দেউলিয়া হয়ে গেছে।
একবার শুধু সুযোগ দেন যে, বিএনপির কর্মসূচি পালন করার, দেখবেন মিছিলে মিছিলে সয়লাব হয়ে গেছে। আমাদের কর্মসূচি পালনের সুযোগ দেয়া হয় না।
পুলিশ বাহিনী দিয়ে আমাদের ঠেকানোর চেষ্টা করা হয়।
বিএনপির এই নেতা বলেন, আপনারা ভারতকে পানি দিয়ে বলেন মানবিক কারণে আমরা আমরা পানি দিয়েছি। তাহলে মানবিক কারণে কেন তিস্তার পানি আনতে পারেন না।
বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মীদের গুলি করে মেরেছেন গুম করেছেন। তাহলে নিজের দেশে এ কেমন মানবিকতা আপনার।
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগে কোন প্রমাণ নাই, এমন কোনে ডকুমেন্ট নাই, তিনি যেখানে স্বাক্ষর করেছেন কিংবা নির্দেশ দিয়েছেন, কিন্তু সরকারের নির্দেশে তার জামিন দেয়া হচ্ছে না।
সর্বোচ্চ আদালতে যদি হয় এ অবস্থা তাহলে নিম্ন আদালতে কি হবে। সরকারকে ক্যাসিনোর দায় দায়িত্ব নিয়ে পদত্যাগ করতে হবে। বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারের সভাপতিত্বে এসময় আরও উপস্থিত নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট ইকাবাল হেসেন, অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা, অ্যাডভোকেট আক্তারুজ্জামান, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী, নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, অ্যাডভোকেট আব্দুল বারী ভূইয়া, অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন, অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ুন কবির ও অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ ভাষাণী।
এছাড়াও আরও উপস্থিত ছিলেন, অ্যাডভোকেট রফিক আহমেদ, অ্যাডভোকেট শামসুজ্জামান খোকা, অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ ভাষাণী, অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান মোল্লা, অ্যাডভোকেট বোরহান উদ্দিন সরকার, অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম মোল্লা, অ্যাডভোকেট আজিজ আল মামুন, অ্যাডভোকেট আশরাফুল আলম সিরাজী রাসেল, অ্যাডভোকেট শরীফুল ইসলাম শিপলু, অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন মাসুম, অ্যাডভোকেট আসমা হেলেন বিথি, অ্যাডভোকেট আসিফুজ্জামান ও অ্যাডভোকেট আরিফ হোসেন সহ বিভিন্ন পর্যায়ের আইনজীবীরা।


0 Comments