নারায়ণগঞ্জে রেলওয়ের উচ্ছেদের সময়ে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া বিক্ষুব্ধরা। ওই সময়ে ব্যবসায়ীরা বাধা দিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। এক পর্যায়ে ব্যবসায়ীরা রেল লাইনে কংক্রিট ফেলে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয়। পরে প্রায় আধা ঘণ্টা পর অতিরিক্ত পুলিশ ও রেলওয়ে পুলিশসহ উচ্ছেদের নেতৃত্বে থাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা বুঝিয়ে ব্যবসায়ীদের সরিয়ে দিলে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়। রেলওয়ে কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা-কমলাপুর থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত ডাবল রেললাইন প্রকল্পের জন্য অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। ওই উন্নয়নের কাজের জন্য গত ১৬ অক্টোবর থেকে বর্তমান রেললাইনের উভয় পাশে রেলওয়ের জায়গার ৪৫ ফুট উচ্ছেদ করা হয়।
যার ধারাবাহিকতায় কেন্দ্রীয় রেলস্টেশন, ২নং রেল গেট থান কাপড়েরর মার্কেট, উকিলপাড়া হোসিয়ারী মার্কেট, চাষাঢ়ার অবৈধ স্থাপনাসহ কয়েকহাজার দোকান ঘর, মার্কেট, স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ৯টা থেকে ২নং রেলগেট এলাকায় থানকাপড় ব্যবসায়ীরা অবস্থান নেয়।
রেলওয়ের উচ্ছেদ কর্মীরা ভেকু নিয়ে আসলে কয়েক শতাধিক ব্যবসায়ী বিক্ষোভ শুরু করে।
এক পর্যায়ে রেললাইনের উপর ছোট বড় কংক্রিট ফেলে ট্রেন লাইন বন্ধ করে দেয়। আন্দোলনরত ব্যবসায়ীরা ট্রেন লাইনে বসে বিক্ষোভ শুরু করে। এতে ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জে আসা ট্রেন ২নং রেল গেট এলাকায় আটকে পরে। প্রায় আধাঘণ্টা পর অতিরিক্ত পুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ ও উচ্ছেদ কর্মীরা অবস্থান নেয়। পরে উচ্ছেদে থাকা ম্যাজিস্ট্রেট ঢাকা রেলওয়ের ভূসম্পত্তি বিভাগের কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম মাইকে ঘোষণা দেন ৪৫ ফুটের বেশি ভাঙা হবে না। ওই ৪৫ ফুট জায়গা রেলওয়ের উন্নয়নের জন্য সরকারি ভাবে ভাঙার নির্দেশ রয়েছে। যেকোন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবো। ওই ঘোষণার পরই ব্যবসায়ীরা অবরোধ তুলে নিয়ে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এর পরই শুরু হয় উচ্ছেদ অভিযান।
সকাল সাড়ে ১০টায় নারায়ণগঞ্জ শহরের ১৪নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী মনিরুজ্জামান মনিরের ‘মনির রেস্তোরা’ এর আসবাবপত্র সরিয়ে নিতে শুরু করে।
বেলা দেড়টায় রেস্তোরার আংশিক অংশ ভেঙে দেয় উচ্ছেদ কর্মীরা। এদিকে আওয়ামীলীগ নেতা মনিরুজ্জামান মনিরের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি কোন কথা বলতে রাজি হননি।
এছাড়াও রেলওয়ের উচ্ছেদের নেতৃত্বে থাকা ঢাকা রেলওয়ের ভূসম্পত্তি বিভাগের কর্মকর্তা নজরুল ইসলামকে ঘটনাস্থলে দেখা যায়নি। নারায়ণগঞ্জ রেলওয়ের পুকুর দখল করে ২ নং রেল গেইট এলাকায় অবৈধ ভাবে ২সহম্রাধীক থান কাপড়ের দোকান গড়ে উঠে। এর মধ্যে আংশিক ডাবল রেল লাইনের জন্য উচ্ছেদ করা হচ্ছে। আর এই উচ্ছেদ নিয়ে একটি চক্র রেল কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করার নামে কোটি কোটি টাকা চাঁদা আদায় করছে বলে উচ্ছেদ হওয়া ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে বলেন, একাধিকবার উচ্ছেদ ঠেকানোর জন্য অর্থ দেয়ার পরও আমাদের কেন উচ্ছেদ করা হলো বুঝতে পারছিনা। এদিকে উচ্ছেদে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে।
রেল লাইনের উত্তর পাশে অভিযান পরিচালনা না হওয়ায় নগরবাসী এনিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তাছাড়া ১ নং রেল গেইট থেকে ২ নং রেল গেইট পর্যন্ত রেল পথের দুই পাশে অবৈধ ভাবে গড়ে উঠা দোকানপাট উচ্ছেদে কোন কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। অথচ এই পথটি নারায়ণগঞ্জবাসীর কাছে মরণপথ হিসাবে পরিচিত। কারণ অবৈধ দোকানপাটের কারণে প্রায় প্রতিদিনই কোন না কোন দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে।


0 Comments