শহরের বাবুরাইল এলাকায় ধসে পড়া ৪ তলা ভবন থেকে এখনও আটকে পড়া শিশু ওয়াজিদকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এর আগে গত শনিবার ভবনটি ধসে শোয়েব (১২) নামে ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রের মৃত্যু হয় ও ৭ জন আহত হন। নিহত শোয়েব বাবুরাইল মুন্সীবাড়ির মৃত শাহাবুদ্দিন মিয়ার ছেলে। ভবনটিতে আটকে পড়া শিশু ওয়াজিদ নিহত শোয়েবের সাথেই ওই ভবনের নিচতলায় আরবি পড়তে গিয়েছিল। ওয়াজিদের বাবা মো. রুবেল বলেন, "শোয়েব ও ওয়াজিদ খালাতো ভাই। তারা ওই ভবনের নিচতলায় আরবি পড়তে গিয়েছিল। ভবন ধসে পড়লে অন্যরা বেরিয়ে আসতে পারলেও আটকে পড়ে শোয়েব ও ওয়াজিদ। শোয়েবকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আমার ছেলেকে যেন সুস্থ অবস্থায় ফেরত পাই এই প্রার্থনা করছি।" নারায়ণগঞ্জ জেলা ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক মো.আব্দুল্লাহ্ আল আরেফীন জানান, ওয়াজিদ নামে এক শিশু ভবনের ভেতর আটকে রয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার আসরের আজানের পর ভবনটি হেলে পড়ে। এসময় বাড়ির মালিকদের কেউ ছিলেন না। গত রোববার বিকেলে ভবনটি ধসে পড়ে। ধসে যাওয়া ভবনটির পাশের ভবনের বাসিন্দা তাসলিমা জানান, "ধ্বসে পড়া বিল্ডিংটি এমনিতেই খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিলো। নিচে তেমন কোনো বেসমেন্ট ছাড়াই ভবনটির চতুর্থ তলার নির্মাণ কাজ চলছিল। এই কারণেই ভবনটি ধসে পড়েছে।" এর আগে বিকেল সোয়া চারটায় বাবুরাইলের মুন্সিবাড়ি এলাকার এইচ এম ম্যানশন নামের ওই ভবনটি ধসে পড়ে। এতে ১ শিশু নিহত ও আরও ৭ জন আহত হন। এদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভবন ধসের ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্টেট রেহেনা আক্তারকে আহবায়ক করে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি ঘটন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে আগামী ৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোঃ জসিম উদ্দিন। ইউএনও নাহিদা বারিক জানান, যে পর্যন্ত নিশ্চিত না হবে সবাইকে উদ্ধার করা হয়েছে ততক্ষণ পর্যন্ত উদ্ধার কাজ চলবে।


0 Comments