পেঁয়াজের দামের লাগামহীন ঘোড়াকে থামানো
যাচ্ছে না। নানা উদ্যোগ আর বিকল্প উৎস থেকে পেঁয়াজ আনা হলেও তাতে কোনো লাভই
হয়নি। সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে ভারত থেকে পেঁয়াজ আসা বন্ধ হওয়ার আগ
পর্যন্ত পেঁয়াজের দাম ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা। এখন সেটি প্রায় তিনগুণ তথা ১৪০
থেকে ১৫০ টাকায় উঠে গেছে। এই অবস্থার শেষ কোথায়? এই প্রশ্নে বাণিজ্য সচিব
ড. মো. জাফর উদ্দীন জানালেন আর এক সপ্তাহ একটু ধৈর্য ধরতে হবে।
এদিকে ভারতের ব্যাঙ্গালুরু থেকে পেঁয়াজ
রফতানির অনুমতি দিয়েছে ভারত সরকার। সেখানকার কৃষকদের চাপে এই অনুমতি দেয়া
হলেও বাংলাদেশে সেখান থেকে সরাসরি পেঁয়াজ আসে না সাধারণত। বাংলাদেশ এখন
অপেক্ষায় আছে মহারাষ্ট্র থেকে আমদানির অনুমতি পাওয়ার। তবে ব্যবসায়ীরা
ব্যাঙ্গালুরু থেকেও পেঁয়াজ আমদানির উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
এছাড়া অন্যান্য উৎস থেকেও এক সপ্তাহের
মধ্যে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ আসবে বলে খবর পাওয়া গেছে। এর বাইরে দুই তিন সপ্তাহের
মধ্যে দেশি নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে
জানা গেছে, গত সপ্তাহে যেসব বাজারে দেশি পেঁয়াজের কেজি ১০০ টাকা বিক্রি
হয়, সেই বাজারগুলোতে এখন দেশি পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৪০-১৫০ টাকা
কেজি। আর ৯০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৩০
টাকা কেজি। খুচরা ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, শ্যামবাজারের ব্যবসায়ীরা প্রতিনিয়ত
পেঁয়াজের দাম বাড়াচ্ছেন। গত এক সপ্তাহে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে তিন দফা।
প্রথম দফায় কেজিতে ১০ টাকা এবং পরের দুই দফায় কেজিতে ২০ টাকা করে পেঁয়াজের
দাম বাড়ানো হয়েছে। এতে এক সপ্তাহে পেঁয়াজের দাম কেজিতে বেড়েছে ৫০ টাকা।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী আড়তে গিয়ে দেখা যায়,
দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬৩০ থেকে ৬৫০ টাকা পাল্লা (৫ কেজি) দরে। অর্থাৎ
এক কেজি দেশি পেঁয়াজের পাইকারি দামই পড়ছে ১২৬ থেকে ১৩০ টাকা। এছাড়া
আমদানিকৃত পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে পাল্লাপ্রতি ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা। আড়তদাররা
বলছেন, আমদানিকারকরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। এর প্রভাব দেশি পেঁয়াজের দামেও
পড়েছে। রাজশাহী, পাবনাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের বাজার থেকে বাড়তি দামে পেঁয়াজ
সংগ্রহ করতে হচ্ছে বলে জানান তারা।
এ ব্যাপারে কথা হয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের
সিনিয়র সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীনের সঙ্গে। তিনি মানবকণ্ঠকে জানান, ভারতের
ব্যাঙ্গালুরু রাজ্যে পেঁয়াজের দামে ধস নেমেছে। সেই প্রেক্ষাপটে কৃষকদের
দাবির মুখে রফতানির অনুমতি দিয়েছে সরকার। যদিও সেখান থেকে সচরাচর আমরা
পেঁয়াজ আমদানি করি না। তবু এটা একটা ইতিবাচক উদ্যোগ। যা মহারাষ্ট্র থেকেও
আমরা শিগগিরই পাব বলে আশা করছি এখন।
তিনি বলেন, এখন যে পরিস্থিতি তা সঙ্কটের
চ‚ড়ান্ত। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই এটা নেমে আসবে। ইতোমধ্যেই এস আলম গ্রুপ
পেঁয়াজ আনছে। এছাড়া মেঘনা ও সিটি গ্রুপ ১০ হাজার মেট্রিক টনের বেশি পেঁয়াজ
বাজারে ছাড়বে শিগগিরই। তবে সিটি গ্রুপের ডিরেক্টর বিশ্বজিৎ সাহা মানবকণ্ঠকে
জানান, প্রাথমিকভাবে তারা আড়াই হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ আনছেন তুরস্ক
থেকে। দুই এক দিনের মধ্যে এটি জাহাজে উঠবে। দেশে পৌঁছতে ২০-২২ তারিখ হয়ে
যেতে পারে। তিনি জানান, এটি আনতে ল্যান্ডিং কস্ট পড়ছে ৪৩ টাকা। এই দামেই
তারা এটি সরকারকে দিয়ে দেবে।
সূত্র জানায়, গত ২৮ অক্টোবর বাণিজ্য
মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক বাণিজ্য শাখার এক আদেশে রফতানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার
করা হয়। আদেশে শুধু কর্ণাটক রাজ্যে উৎপাদিত ‘ব্যাঙ্গালুর গোলাপি পেঁয়াজ’
রফতানির অনুমতি দেয়া হয়েছে। আদেশে বলা হয়, প্রতি চালানে সর্বোচ্চ ৯ হাজার
টন পর্যন্ত রফতানি করা যাবে। এ পেঁয়াজ ভারতের হর্টিকালচার কমিশনারের অনুমতি
নিয়ে চেন্নাই সমুদ্রবন্দর দিয়ে রফতানি করতে হবে। আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত
এ আদেশ বহাল থাকবে। একটি রাজ্য থেকে পেঁয়াজ রফতানির আদেশে ক্ষুব্ধ হয়েছেন
ভারতের অন্য অঞ্চলের কৃষকরা। বিশেষ করে এশিয়ার পেঁয়াজের সবচেয়ে বড় বাজার
লাসাগাঁওয়ের কৃষকরা
এ সিদ্ধান্তে ক্ষোভ জানিয়ে কেন্দ্রের কাছে
আবেদন করেছেন রফতানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে। আমদানিকারকরা বলছেন, বাংলাদেশে
ভারতের পেঁয়াজ বেশি বিক্রি হয় নাসিক জাতের; যা উৎপাদন হয় মহারাষ্ট্রে। এ
ছাড়া সুখসাগর, পাটনা, সাউথ জাতের পেঁয়াজও বিক্রি হয়। ভারতের রফতানি
নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার ঘোষণায় পেঁয়াজের দাম দু-চার দিনের মধ্যে কমে আসবে
বলে জানিয়েছেন খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা।


0 Comments